ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

নিপাহ ভাইরাস কী, ভারতে প্রাদুর্ভাবে অন্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো ভারতের বাইরে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি, তবু উচ্চ মৃত্যুহার, সংক্রমণের ধরন এবং আসন্ন বড় ভ্রমণ মৌসুমের কারণে সতর্কতা বাড়িয়েছে একাধিক দেশ।

নিপাহ ভাইরাস কী

নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক ভাইরাস, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। সাধারণত শূকর ও বাদুড়ের মতো প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। দূষিত খাবারের মাধ্যমেও বা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে মানুষে-মানুষে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিপাহ ভাইরাসকে শীর্ষ ১০ অগ্রাধিকারভুক্ত রোগের তালিকায় রেখেছে। কোভিড-১৯ ও জিকার মতো ভাইরাসের সঙ্গে একে রাখা হয়েছে সম্ভাব্য মহামারি সৃষ্টির কারণ হিসেবে।

আরও পড়ুন>>
পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের খোঁজ
ভারতে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি

ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সাধারণত চার থেকে ১৪ দিন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উপসর্গের তারতম্য দেখা যায়—কেউ তীব্রভাবে অসুস্থ হন, আবার কেউ উপসর্গহীনও থাকতে পারেন।

উপসর্গ ও ঝুঁকি

নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি এবং গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, চেতনার পরিবর্তন এবং নিউমোনিয়া দেখা দেয়।

গুরুতর অবস্থায় এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা অনুমোদিত হয়নি।

ভারতের পরিস্থিতি

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত পাঁচজন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে দুই নার্সকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের একজনের অবস্থা এখনো ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’।

আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা বহু মানুষকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

অন্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন কেন?

নিপাহ ভাইরাসের উচ্চ মৃত্যুহার এবং মহামারির আশঙ্কার কারণে প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলো বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে।

গত রোববার থেকে থাইল্যান্ড ব্যাংকক ও ফুকেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করেছে। এসব যাত্রীকে স্বাস্থ্য ঘোষণা দিতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশটির পার্ক ও বন্যপ্রাণী বিভাগ প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় কড়া নজরদারি চালু করেছে।

নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত স্থল সীমান্তগুলোতে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে।

চীনে নিপাহ প্রাদুর্ভাব ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে দেশটিতে সামনে ব্যাপক ভ্রমণ শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গে অন্তত পাঁচজন আক্রান্ত হওয়ার খবরে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই আবার কোভিড-১৯–এর সময়কার লকডাউনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

তবে চীনা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা কম।

অন্যদিকে, তাইওয়ানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে ‘ক্যাটাগরি ফাইভ’ রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই শ্রেণির রোগগুলো বিরল বা নতুন সংক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক রিপোর্টিং ও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।

সূত্র: বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
কেএএ/