ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১০ জনের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ও পুলিশপ্রধানসহ মোট ১০ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘সাম্প্রতিক নৃশংসতায়’ তাদের ভূমিকার অভিযোগে তুলে সোমবার (২ জানুয়ারি) এই পদক্ষেপ নেয় ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার (২ জানুয়ারি) থেকেই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফারাজা ওই ১০ ব্যক্তির সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই কর্মকর্তা।
ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাজ্যের আওতাধীন এলাকায় কোম্পানির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা।
এর আগে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তেহরানের অর্থপাচারে সহায়তাকারী এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঘোষিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও পাঁচজন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়নে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
পাঁচ কর্মকর্তা ছাড়াও ইরানি বিনিয়োগকারী বাবাক জানজানি ও যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত দুটি ডিজিটাল সম্পদ বিনিময় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারির দাবি, এসব প্ল্যাটফর্ম আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত ছিল।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং সাইবার অপরাধে অর্থায়নের জন্য ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহারকারী ইরানি ক্ষমতাধর গোষ্ঠী ও তাদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছেন, যদিও তিনি ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: এএফপি
এসএএইচ