ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ভারতে অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘালয় রাজ্যের একটি অবৈধ কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তা পাহাড় জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত ওই খনি থেকে এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা মনীশ কুমার।

তবে বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ আশঙ্কা করছে, আরও শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

মনীশ কুমার বলেন, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় পুনরায় অভিযান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি খনিটিকে একটি অবৈধ র‍্যাট-হোল মাইন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। র‍্যাট-হোল মাইনে শ্রমিকরা চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলন করে থাকেন।

জেলা পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডিনামাইট বিস্ফোরণের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেছেন, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট আগুন কিংবা বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসের মাধ্যমে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এখনো কেউ জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে এসে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তাই মোট কতজন শ্রমিক সেখানে ছিলেন বা আর কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ খনন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তা পাহাড়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত।

একই সঙ্গে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 ২০১৮ সালেও মেঘালয়ে একটি র‍্যাট-হোল খনিতে আটকা পড়ে অন্তত ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। পরিবেশ দূষণ, বিশেষ করে পানিদূষণের কারণে ২০১৪ সাল থেকে মেঘালয়ে র‍্যাট-হোল মাইনিং নিষিদ্ধ রয়েছে। তবুও অবৈধভাবে এই কার্যক্রম চালু থাকায় বারবার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কে এম