ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ভারত

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার ওপর ছাত্রের হামলা, ভিডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিক্ষিকার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তারই সাবেক এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। ধারালো অস্ত্রের ওই শিক্ষিকার মুখে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের বয়স ১৭ বছর। তিনি একটি বেসরকারি স্কুলের সাবেক ছাত্র। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার বয়স ২৫ বছর। ঘটনাটি ঘটে ২০ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মৈনপুরির কোতোয়ালি এলাকায়। তবে ৪ ফেব্রুয়ারি দেড় মিনিটের একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি আবাসিক এলাকার রাস্তায় শিক্ষিকাকে জোর করে থামায় অভিযুক্ত। সে শিক্ষিকাকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষিকা বাধা দিলে অভিযুক্ত তাকে গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখে আঘাত করে। এতে ওই নারীর ওপরের ও নিচের ঠোঁটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন>>
সাবেক প্রেমিকের স্ত্রীর শরীরে এইচআইভি ঢুকিয়ে দিলেন নারী
‘গোমূত্র গবেষণার জন্য’ পদ্মশ্রী পাচ্ছেন আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক!
মেডিকেলে ভর্তিতে প্রতিবন্ধী কোটা পেতে নিজের পা কেটে ফেললেন তরুণ

এ ঘটনায় পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৭৪ ধারা (নারীর শালীনতা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে হামলা), ১১৮(২) ধারা (বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম) এবং ২৯৬ ধারা (সার্বজনিক স্থানে অশালীন আচরণ) অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে।

ভুক্তভোগীর ভাইয়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বোন আগে অভিযুক্তের একই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। বারবার হয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি সেই স্কুল থেকে চাকরি ছেড়ে দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কিশোর শিক্ষিকার পথ আটকানো, অশালীন ইঙ্গিত করা এবং শারীরিক সম্পর্কের দাবি জানাতে থাকে। বিষয়টি অভিযুক্তের মাকে জানানো হলেও হয়রানি বন্ধ হয়নি।

পরবর্তী সময়ে শহরের আরেকটি স্কুলে যোগ দিলেও অভিযুক্ত তাকে অনুসরণ ও উত্ত্যক্ত করতে থাকে। গত ২০ জানুয়ারি টিউশনি পড়াতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত তাকে রাস্তায় আটকে হামলা চালায়। ভাইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় শিক্ষিকার ঠোঁট এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তিনি স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়ে যেতে পারেন।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে সাইফাই মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে প্লাস্টিক সার্জন না থাকায় পরিবার তাকে আগ্রার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফতেহ বাহাদুর জানান, পরিবার প্রথমে চিকিৎসায় অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভিযোগ জানাতে দেরি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
কেএএ/