ভারত
মেডিকেলে ভর্তিতে প্রতিবন্ধী কোটা পেতে নিজের পা কেটে ফেললেন তরুণ
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চরম ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক তরুণ। প্রতিবন্ধী কোটায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতে নিজেই নিজের পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২০ বছর বয়সী সুরজ ভাস্কার এর আগে দুইবার সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট’ (নিট)-এ উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে না পেরে মানসিক চাপে পড়ে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুরজ দাবি করেছিলেন, তিনি এক সহিংস হামলায় পা হারিয়েছেন। তবে তদন্তে সেই দাবি অসত্য প্রমাণিত হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোন কোন ফৌজদারি ধারায় মামলা করা হবে, সে বিষয়ে আইনি মতামত নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন>>
মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল ভারতে!
ভারতে ‘অবৈধ মাদরাসা’ অভিযোগে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মুসলিম যুবকের স্কুল
পিস্তল বের করে প্রধান শিক্ষককে হুমকি, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আটক
উত্তর প্রদেশের জৌনপুর জেলার খালিলপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির তদন্তসংক্রান্ত তথ্য গত ২১ জানুয়ারি নগর এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়ুষ শ্রীবাস্তবকে জানানো হয়।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি সুরজের বড় ভাই আকাশ ভাস্কার পুলিশকে জানান, আগের রাতে ‘অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারীরা’ তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর সুরজ অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এবং তার একটি পা কাটা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এরপরই পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সিটি সার্কেল অফিসার গোল্ডি গুপ্তকে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ সুরজের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং তদন্তে উঠে আসা একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এক নারীর জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশি সন্দেহ আরও জোরালো করে।
এছাড়া সুরজের একটি ডায়েরিও উদ্ধার করে পুলিশ, যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি ২০২৬ সালে এমবিবিএস ডাক্তার হবো।’
পুলিশ জানিয়েছে, টানা দুইবার নিট পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর সুরজ মানসিক চাপে পড়ে যান। এরপরই প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুবিধা নিতে তিনি নিজেকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী করার পরিকল্পনা করেন এবং নিজের পা কেটে ঘটনাটিকে অপরাধমূলক হামলা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেন।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ যাচাইয়ের সময় তার বক্তব্য টেকেনি।’ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।
লাইন বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সতীশ সিং জানিয়েছেন, সুরজ বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সূত্র: দ্য হিন্দু
কেএএ/