ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

দ্য ইকোনমিস্ট

আগাম নির্বাচনে তাকাইচির জয় জাপানের রাজনীতির মোড় ঘুরাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সানে তাকাইচি জাপানের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে এক ধরনের বাজি ধরেছিলেন এবং এতে সফলও হয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জয়লাভ করেছে। জোট শরিকের সমর্থন ছাড়াই এলডিপি সংসদের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই ফলাফল দেশজুড়ে তার প্রতি বিশাল জনসমর্থন জানান দিয়েছে যা জাপানের রাজনীতিতে এলডিপির প্রশ্নাতীত আধিপত্য ফিরে আসার ইঙ্গিত বলা যায়।

তবে তিনি যে এই বিশাল জয় পাবেন সেই নিশ্চয়তা খুব একটা ছিল না। যদিও গত অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাকাইচি নিজে যতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তার দল সেই অবস্থানে নেই।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, দলের চেয়ে ব্যক্তি তাকাইচি ভোটাদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। সরকারি সম্প্রচারক এনএইচকের সংগ্রহ করা ফলাফল অনুসারে, রোববারের নির্বাচনে শক্তিশালী নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৩১৬টি আসন জিতেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি।

১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর এলডিপি মাত্র দুবার ক্ষমতা হারিয়েছে। ২০০৯-১২ সালে বিরোধী দলের অস্থির শাসনের পর, দলটি তাকাইচির পরামর্শদাতা শিনজো আবের অধীনে তাদের হারানো আধিপত্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শিনজো আবে। কিন্তু গত কয়েক বছরে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে দলটি হোঁচট খেয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিম্নকক্ষের ভোটে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে জোট সরকার গঠন করতে হয়।

দেশের পরিবর্তনের জন্য আগ্রহী ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তাকাইচি। ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো পরিবর্তনের আভাস পেয়েছেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন তিনি। জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার সম্পর্ক বেশ ভালো। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাকাইচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক বিবাদ তাকে নিজ দেশে শক্তিশালী সমর্থন জোগাতে সহায়তা করেছে। বড় খরচের প্রতিশ্রুতি বন্ড বাজারে ঝাঁকুনি দিলেও ভোটারদের কাছে এটি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছে।

প্রচারণার সময় তাকাইচি তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করেছেন। ‘কাজ, কাজ, কাজ, কাজ, কাজ’ এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। ১২ দিনের নির্বাচনী সময়কালে তিনি অন্য যেকোনো দলের নেতার চেয়ে বেশি এলাকা অর্থাৎ ১২ হাজার ৪৮০ কিলোমিটার সফর করেছেন।

এই নির্বাচনের অসাধারণ ফলাফল আগামী বছরগুলোতে জাপানের রাজনীতিকে নতুন রূপ দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে এলডিপি বিরোধীদের চাপ উপেক্ষা করতে সক্ষম হবে। তাকাইচি হয়তো এই নির্বাচন থেকে আরও শক্তিশালী এবং সাহসী হয়ে উঠবেন।

তাকাইচি তার পছন্দের নীতিগুলোও অনুসরণ করতে পারেন। তিনি একটি ‘দায়িত্বশীল এবং সক্রিয় আর্থিক নীতি’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্যের জন্য কর দুই বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে সমর্থন করার জন্য শিল্প নীতিতে বড় বিনিয়োগ।

তিনি জাপানের সশস্ত্র বাহিনী এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আরও সংস্কারের নেতৃত্ব দিতে চান। তাকাইচি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে উৎসাহিত করতে অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি একটি নতুন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা তৈরির পক্ষে মত দিয়েছেন। তাকাইচি তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শত্রুদের দ্রুত মোকাবিলা করছেন। কিন্তু বন্ড বাজারের নজরদারি থেকে শুরু করে বেইজিংয়ে তার প্রতিপক্ষ পর্যন্ত অন্যান্য প্রতিপক্ষদের পরাস্ত করা এত সহজ হবে কি না তা সময়ই বলে দেবে।

টিটিএন