ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে গুলি করে মারেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে তর্ক করায় যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক বাবা। এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এ ঘটনার তদন্তে। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ঘটলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হ্যারিসন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টেক্সাসের ডালাসের কাছে প্রসপার শহরে বাবার বাড়িতে যান। আর ওই মাসের ১০ তারিখে তিনি বাবার ছোড়া গুলিতে নিহত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডটিকে সম্ভাব্য ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ নয় এমন দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত শুরু করে। তাছাড়া টেক্সাসের কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন না করায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা সম্ভব হয় না।

তবে চেশায়ার করোনারস কোর্টে শুরু হওয়া শুনানিতে লুসির বন্ধু স্যাম লিটলার জানান, ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে বাবা-মেয়ের ‘বড় ধরনের তর্ক’ হয়েছিল। ট্রাম্প তখন দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

লিটলার আরও জানান, লুসি প্রায়ই বাবার বন্দুক রাখার বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন। মৃত্যুর কারণ তদন্তে আরও জানা যায়, লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসন বহু বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান ও অতীতে মদ্যপানের কারণে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন।

লিটলার জানান, ১০ জানুয়ারি সকালে ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আমি যদি ওই পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েটি হতাম ও যদি আমাকে যৌন নির্যাতন করা হতো, তাহলে তুমি কেমন অনুভব করতে?

জবাবে ক্রিস হ্যারিসন বলেন, আমার সঙ্গে আরও দুটি মেয়ে থাকে, তাই এটি আমাকে ‘তেমনভাবে’ বিচলিত করতো না। এ কথায় লুসি খুবই কষ্ট পান ও দৌড়ে ওপরে চলে যান।

লিটলার জানান, সেদিন বিকেলে লুসি রান্নাঘরে থাকাকালে তার বাবা তাকে হাত ধরে নিচতলার শোবার ঘরে নিয়ে যান। প্রায় ১৫ সেকেন্ড পরে তিনি একটি তীব্র শব্দ শুনতে পান, এরপর ক্রিস চিৎকার করে তার স্ত্রী হিদারকে ডাকেন।

লুসির বন্ধু বলেন, আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকে দেখি লুসি বাথরুমের দরজার কাছে মেঝেতে পড়ে আছে ও তার বাবা অসংলগ্নভাবে চিৎকার করছে।

তদন্তে অনুপস্থিত ক্রিস হ্যারিসন লিখিত বিবৃতিতে স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তিনি ফের মদ্যপান শুরু করেন ও প্রায় ৫০০ মিলিলিটার (এমএল) সাদা ওয়াইন পান করেছিলেন।

ক্রিস হ্যারিসন তার বিবৃতিতে জানান, বাবা-মেয়ে তখন টেলিভিশনে বন্দুকসংশ্লিষ্ট একটি খবর দেখছিলেন। তখন তিনি লুসিকে জানান যে তার কাছে একটি বন্দুক আছে ও সে চাইলে সেটি দেখতে পারে। এরপর তারা শোবার ঘরে যান, যেখানে ক্রিস তার বেডসাইড কেবিনেটে রাখা গ্লক ৯ মিমি সেমি-অটোমেটিক পিস্তলটি দেখাতে চান।

তিনি বলেন, পিস্তলটি তিনি কয়েক বছর আগে কিনেছিলেন পরিবারের নিরাপত্তা বিবেচনায়। তিনি দাবি করেন, এর আগে কখনো লুসির সঙ্গে বন্দুক নিয়ে কথা বলেননি।

তিনি লেখেন, আমি বন্দুকটি তুলতেই হঠাৎ একটি জোরালো শব্দ হলো। বুঝতেই পারিনি কী হলো। লুসি সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেলো। ক্রিসের দাবি, তার আঙুল ট্রিগারে ছিল কি না, তা তিনি মনে করতে পারছেন না।

ক্রিস হ্যারিসন অতীতের মদ্যপানের সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, মেয়েকে চলে যেতে হবে জেনে তিনি সেদিন ‘সংক্ষিপ্তভাবে নিয়ন্ত্রণ হারান’ ও মদ পান করেন।

মৃত্যুর কাল তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশের কর্মকর্তা লুসিয়ানা এসকালেরার সাক্ষ্য পড়া হয়, যেখানে উল্লেখ ছিল যে শুটিংয়ের পর বাড়িতে গিয়ে তিনি ক্রিসের নিঃশ্বাসে অ্যালকোহলের গন্ধ পান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টার আগে একটি সেভেন-ইলেভেন দোকান থেকে ক্রিস ৫০০ মিলিলিটারের দুই বোতল চার্ডনে ওয়াইন কিনেছিলেন।

লুসির মা জেন কোউটসের আইনজীবী লুইস নরিস আবেদনটিকে ‘হ্যারিসনের পক্ষ থেকে আকস্মিক আঘাত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে লুসিকে গুলি করেছেন ক্রিস হ্যারিসনই, ঘরে তখন তারাই দুজন ছিলেন।

ক্রিস হ্যারিসন পরে তার আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, তিনি তার কাজের পরিণতি পুরোপুরি মেনে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমি এই ক্ষতির ভার অনুভব করি, এটা আমাকে সারাজীবন বহন করতে হবে।

লুসির মা কোউটস জানান, বুহু ফ্যাশন ব্র্যান্ডে বাইয়ার হিসেবে কাজ করা লুসি ছিলেন একজন প্রাণচঞ্চল, প্রাণবন্ত মানুষ। তিনি অনেক যন্তশীল ছিলেন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যৌক্তিক বিতর্ক করতে ভালোবাসতেন।

সূত্র: বিবিসি

এসএএইচ