ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে বিএনপির জয়, আশার আলো দেখছেন কলকাতা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচিত সরকারকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষ যেমন নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে, তেমনি কলকাতার মিনি বাংলাদেশ বলে পরিচিত নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরাও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তাদের আশা এবার হয়তো মরা গাঙে বান আসবে, ব্যবসায় গতি আসবে, দুইদেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত বাড়বে এবং ভিসার সরলীকরণ হবে।

jagonews24.com

নির্বাচনে বিএনপির জয় সুস্পষ্ট হতেই গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রমজানের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা।

jagonews24.com

রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির জয়ে উচ্ছ্বসিত কলকাতার নিউমার্কেটে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন। ব্যবসায়ীদের অভিমত, মাছ যেমন পানি ছাড়া থাকতে পারে না, ভারত ও বাংলাদেশও একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না।

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ব্যবসায়ী সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী হায়দার আলী খান জানান, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে সরকার আসছে তা ভারতের জন্য খুব ভালো হলো। তাছাড়া তারেক রহমানের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে তিনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একজন খুব ভালো প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। পাশাপাশি ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে পুরোনো সম্পর্ক সেই জায়গাটাও ফিরে আসবে।

jagonews24.com

সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি জানান, যেভাবে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে সেটা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। মাছ যেমন পানি ছাড়া থাকতে পারে না ভারতও তেমন বাংলাদেশকে ছাড়া থাকতে পারে না। আমাদের যেমন বাংলাদেশকে দরকার, ঠিক সেভাবে বাংলাদেশেরও আমাদেরকে দরকার। পশ্চিমবঙ্গের মিনি বাংলাদেশ বলে পরিচিত নিউ মার্কেটকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবো এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তার অভিমত, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোক জ্ঞাপন করতে যেভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন তখনই মনে হয়েছিল যে ভারতের অভিপ্রায় পরিষ্কার। এই অবস্থায় বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি ভারতের সঙ্গে সদভাব রেখে চলতে যায় সেটা আমাদের দুদেশের পক্ষের জন্যই ভালো।

jagonews24.com

প্রতিবেশী দেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে বলবো তারা যেন আমাদের এখানে আসেন, ভারত সরকারও সাধ্যমতো তাদেরকে সব রকম সহযোগিতা করবে।

মার্কুইস স্ট্রিটে অবস্থিত কলকাতার ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সাইন্সেস’ (আর.এন টেগোর) হাসপাতালের অধীনস্থ একটি আউটলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর খান জানান জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের প্রত্যাশা এবার বাংলাদেশ অগ্রগতির পথে এগোবে এবং ফিরে আসবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হারানো সম্পর্ক পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। গত দেড় বছরে আমাদের ব্যবসার ওপর ভালো প্রভাব পড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা এই অবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে।

jagonews24.com

ব্যবসায়ীদের অনেকেরই অভিমত, একটা সময় ছিল যখন নিরিবিলিতে এক কাপ চা খাওয়ার সময় পেতেন না কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিটের মোড়ের হাতে টানা রিকশাচালকরা। আসলে পর্যটকদের ভিড়ের চাপে লাঞ্চ করা তো দূরের কথা! চা পানের সময়টুকুও নাকি পাওয়া যেত না। যদিও সেই ঘটনা খুব বেশিদিন আগেকার নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা দমকা হাওয়া মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট করে দিল। ঢাকায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঢেউ এসে লাগলো এপার বাংলা- পশ্চিমবঙ্গেও। সেই ঢেউয়ের দোলায় যেমন দুই বাংলার সম্পর্কে শীতলতা আসে, তেমনি মারাত্মক প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

সীমান্ত পাড়ের এই দুই বাংলায় ভাষা, খাদ্যাভাস, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা একরকম হওয়ার কারণে সবসময়ই বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রথম পছন্দ এই কলকাতা, বিশেষ করে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকা। বাংলাদেশিদের ওপর নির্ভর করেই এই নিউমার্কেটে গড়ে ওঠে হোটেল, গেস্ট হাউস, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, ট্রাভেল এজেন্সি, কসমেটিক, স্টেশনারি, বস্ত্র বিপনী, শপিংমল।

স্বাভাবিক কারণেই গোটা ভারতে ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিতি পেতে খুব একটা সময় লাগেনি নিউ মার্কেটের।

বছরের প্রতিটা সময়েই মারকুইস স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, কিড স্ট্রিট, রয়েড স্ট্রিট, কলিন লেন, টটি লেনসহ নিউমার্কেটের অলিগলিতে ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি থাকে। ফলে নিউমার্কেটের ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এই বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর।

jagonews24.com

কিন্তু গত দেড় বছরে সেই চেনা পরিচিত ছবি কার্যত উধাও হয়ে গেছে। তলানিতে ঠেকেছে নিউমার্কেটের ব্যবসা-বাণিজ্য। মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের। বাধ্য হয়েই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সংসার চালাতে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা বেছে নিয়েছেন অনেকেই। আগের সেই অবস্থার পরিবর্তন এখনো হয়নি। কিন্তু পদ্মা পাড়ের নির্বাচনী জয় কলকাতার নিউমার্কেটের সেই ব্যবসায়ীদের মনে এনেছে স্বস্তির নিঃশ্বাস।

 

jagonews24.com

কলকাতার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী পিন্টু ঘোষ জানান, এটাই আমরা আশা করেছিলাম যে নির্বাচনটা হয়ে যাক। যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমাদের ব্যবসা উজ্জীবিত করা দরকার। কারণ আমাদের এখানকার ব্যবসা বাংলাদেশের পর্যটকদের ওপরেই নির্ভরশীল। তারেক রহমানের সরকার যেন আমাদের দেশের সাথে একটা সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এটাই আমরা চাই। তাছাড়া ভিসার যে সমস্যা আছে বাংলাদেশের নতুন সরকার এসে সেই সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেবে। সেক্ষেত্রে পর্যটক ভিসা দিলেই আগের মতো বাংলাদেশের নাগরিকরা এখানে আসা শুরু করবে।

jagonews24.com

শ্যামলী পরিবহনের কালেকশন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন রায় জানান, আমরা আশা করবো তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। তারপর ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন হোক, ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নতি ঘটুক, ভিসা ব্যবস্থা সচল হোক। তিনি বলেন, একটা সময় মার্কুইস স্ট্রিটের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ৮০ শতাংশ লোকই ছিল বাংলাদেশের, কিন্তু গত দেড় বছরে নিউমার্কেটের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন সরকার আসলে এই ব্যবসায় যাতে পুনরায় জীবন ফিরে পায় সেটাই চাইবো।

ডিডি/টিটিএন