ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আন্তর্জাতিক

দ্য হিন্দুকে মির্জা ফখরুল

হাসিনাকে না ফেরালেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে বাধা পড়বে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য কোনো ‘বাধা’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার ভাষায়, দুই দেশের সম্পর্ক একটি ইস্যুতে বন্দি করে রাখা যাবে না ও বাংলাদেশ তার বৃহত্তর স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের আগে ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে দ্য হিন্দুকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন মির্জা ফখরুল। সাক্ষাৎকারে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে ও ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন-অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাকে বিচার করার ব্যাপারে দেশে জনমত রয়েছে। আমরা মনে করি, ভারতের উচিত তাকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া। কিন্তু দিল্লি যদি তাকে ফেরত নাও দেয়, তবুও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা পড়বে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক চাই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ‘একটি ইস্যু কেন্দ্র করে জিম্মি’ হয়ে থাকা উচিত নয়।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দেশ ছাড়েন। অন্তর্বর্তী সরকার গত সতেরো মাসে একাধিকবার তাদের ফেরত চাইলেও ভারত কোনো সাড়া দেয়নি।

ফখরুল বলেন, হাসিনাসহ যেসব মন্ত্রী ও আমলারা হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্বে থাকা ও তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় দল পরিচালনায় ঘনিষ্ঠ ভূমিকা রাখা মির্জা ফখরুল বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের কঠিন বিষয়গুলো থাকলেও সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র উন্মুক্ত। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনেক সমস্যা আছে, তবুও তারা কাজ করছে। আমরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।

তিনি বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকাও তুলে ধরেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ভারতের আশ্রয়ে থাকার সময়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেসাইকে ঢাকায় স্বাগত জানান। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে যখন শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে রাজনীতিতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় প্রেসিডেন্ট জিয়া দিল্লি গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ফখরুল বলেন, এটাই একজন রাষ্ট্রনায়কের মতো আচরণ।

ফরাক্কার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নসহ সীমান্তে হত্যার মতো ইস্যু আগামী বছর সামনে আসবে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের কথা বলতে হবে। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। যারা যুদ্ধের কথা বলে তারা পাগলের মতো কথা বলে।

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় নেতৃত্ব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে পুনর্মিলনে বিশ্বাসী। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সহিংসতা ও প্রতিশোধের রাজনীতি স্বাস্থ্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুনর্মিলন আনতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন ও অধ্যাপক ইউনূস তাদের বেধে দেওয়া সীমার বাইরে যেতে পারেননি।

ফখরুল বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে দুই দেশের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। ভারতের প্রযুক্তিগত শিক্ষায় সক্ষমতা আছে, আর আমাদের অনেক বেকার যুবক আছে। আমরা চাই তাদের দক্ষতা বাড়াতে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে চাকরি পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যে বিপুল ঋণের বোঝা রেখে গেছে, নতুন সরকারকে তা মোকাবিলা করতে হবে। এ কারণে মেগা প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, কোন প্রকল্প বাংলাদেশের প্রকৃত স্বার্থে, আর কোনটি অপচয়- তা নির্ধারণের জন্য। এসব প্রকল্পের মধ্যে যেগুলো দেশের স্বার্থে, সেগুলোই আমরা রাখবো, বলেন বিএনপির মহাসচিব।

সূত্র: দ্য হিন্দু

এসএএইচ