ইসরায়েলকে নিন্দা জানানো দেশের তালিকায় নাম লেখালো ভারত
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপের নিন্দা জানানো দেশগুলোর তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারত/ ছবি: এআই দিয়ে বানানো
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের একতরফা পদক্ষেপের নিন্দা জানানো দেশগুলোর তালিকায় নিজেদের নাম লেখালো ভারত। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ভারতের নাম ছিল না। সে তালিকায় শুরুতে ছিল ৮৫টি দেশ।
এই বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতের কোয়াড সহযোগী অস্ট্রেলিয়া ও জাপান ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মরিশাস ও পাকিস্তান। বিবৃতিটি জাতিসংঘে সংশ্লিষ্ট বৈঠকের ঠিক আগে ও বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিসের বৈঠকের প্রাক্কালে আসে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এক ‘স্টেকআউটে’ এই যৌথ বিবৃতি পাঠ করেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। সেসময় তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বহু দেশের কূটনীতিকরা। রাষ্ট্রদূত মনসুর বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ আমরা কঠোরভাবে নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা যে কোনো ধরনের দখলদারির বিরোধিতা করছি। এই বিবৃতি ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড- পূর্ব জেরুসালেমসহ এর জনবিন্যাস, চরিত্র ও স্থিতি পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া যে কোনো কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করছে।
গত কয়েক মাস ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি সংসদ পশ্চিম তীরের ‘এ’ ও ‘বি’ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদারের নানা পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। অসলো চুক্তির (১৯৯৩-১৯৯৫) পর থেকে এ অঞ্চলগুলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বহিরাগতদের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া ও বর্তমান বাসিন্দাদের নথিপত্র যাচাই, যা অনেকের নজরে ওই অঞ্চল দখল ও পরবর্তী দখলদারিত্বের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেমনটি অন্য জায়গুলোতে ইসরায়েলি বসতকারীরা করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার চলমান প্রচেষ্টা দুর্বল করে এবং বিস্তৃত পরিকল্পনার পরিপন্থী। এগুলো সংঘাতের অবসান ঘটানো একটি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকেও বিপন্ন করে।
এর আগে বিবৃতিতে ভারতের নাম অনুপস্থিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কূটনীতিকদের কঠোর সমালোচনা দেখা যায়। ইরানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত কে. সি. সিংহ মন্তব্য করেন, ভারত এভাবে প্রকাশ্যভাবে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোটা দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার কৌশলের অংশ হিসেবেই কি ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা মেনন রাও লেখেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বলতে ভারতের বিকল্প বাড়ানো বোঝায়, সংকুচিত করা নয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের প্রচলিত অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, স্বায়ত্তশাসন যখন নীতিগত অবস্থান এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাতে পরিণত হয়, তখন তা স্বাধীনতার চেয়ে বেশি মনে হয় ঢেকে রাখা কৌশল।
গত ৩১ জানুয়ারি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আরব রাষ্ট্রসমূহের লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরন্দ্রে মোদীর সঙ্গে ঠিক কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েল সফরের বিষয়টি কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় আছে। এটি এমন সময় আসছে যখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে গত নভেম্বরের ভারত সফর স্থগিত করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ এ যৌন অপরাধি জেফরি এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, ট্রাম্পের আগের মেয়াদে তাকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে ‘নাচ-গান’ করেছিলেন মোদী। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
এসএএইচ