শুল্ক রায়ে ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা কমলো, তবে অনিশ্চয়তা কাটছে না
শুল্ক রায়ে ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা কমলো, তবে অনিশ্চয়তা কাটছে না
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বড় অংশের শুল্ক বাতিল করেছেন মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত। এতে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ বা হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হয়েছে। তবে বাণিজ্য অংশীদার ও কোম্পানিগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি।
শুক্রবার আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সব আমদানির ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন এবং অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ খুলতে নতুন বাণিজ্য তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তিগুলো বহাল থাকবে।
এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি নতুন শুল্কহার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন, যা আইনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ সীমা।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ট্রাম্পের দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন তার বাণিজ্য অংশীদারদের চাপে রাখার কৌশলেরই অংশ।
তিনি বলেন, অনিশ্চয়তাই তার কাছে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির বড় হাতিয়ার। কারণ সবাই ভাবছে, তিনি পরবর্তী পদক্ষেপে কী করবেন।
তবে কাটলারসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আদালতের ৬-৩ ভোটের রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব হয়েছে। বিকল্প হিসেবে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এবং অন্যান্য আইনের আওতায় নতুন শুল্ক আরোপে সময় লাগবে। ফলে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ তিনি হারিয়েছেন।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের উইলিয়াম রেইনশ বলেন, আদালতের রায় ট্রাম্পের বড় লাঠি নাড়ানোর ক্ষমতা কমিয়েছে। তবে নতুন শুল্ক ও আসন্ন পদক্ষেপগুলো কিছু ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া শুল্কের প্রভাব পূরণ করতে পারে।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ফ্রম্যান বলেন, আদালতের রায় ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ায় এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে—যেমন অবৈধভাবে আদায় করা শুল্ক কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে এবং সামনে আরও কী শুল্ক আসছে।
তিনি বলেন, এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হলো—বাণিজ্যের বাইরের ইস্যুতে শুল্ককে চাপ প্রয়োগ বা শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা কমে আসতে পারে।
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান জশ লিপস্কি বলেন, ট্রাম্পের প্রভাব কতটা কমবে তা এখনই বলা কঠিন। কারণ নতুন শুল্ক ও অন্যান্য আইনি উপায়ের ব্যবহার কেমন হবে, তা সময়ই বলবে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যে প্রায় ২০টি কাঠামোগত বা পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এসব চুক্তি বহাল থাকবে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা মিরিয়াম সাপিরো বলেন, ট্রাম্পের ক্ষমতা কিছুটা কমলেও বিদ্যমান চুক্তিগুলো ভেঙে পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। বরং নতুন আলোচনায় দেশগুলো কিছুটা বাড়তি দরকষাকষির সুযোগ পেতে পারে।
বিদেশি প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত ছিল সংযত। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছে এবং নভেম্বরের শুল্ক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা চালিয়ে যাবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
- ২ বুধবার ইসরায়েল সফরে যাবেন মোদী, জানালেন নেতানিয়াহু
- ৩ মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশে ইসরায়েলের অধিকার আছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
- ৪ শুল্ক রায়ে ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা কমলো, তবে অনিশ্চয়তা কাটছে না
- ৫ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো ইরান