গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬, তীব্র হচ্ছে মানবিক সহায়তা সংকট
ছবি: এএফপি
গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার দুটি পুলিশ পোস্টে ড্রোন হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বাহিনীর এই ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)ভোরের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়।
খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা বিভাগের তথ্য মতে, আল-মাওয়াসির আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলার পর চারজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, হামলাটি এমন এক এলাকায় হয়েছে যা ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
অন্যদিকে, গাজার কেন্দ্রীয় অংশে বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশপথে একটি পুলিশ পোস্টে একই ধরনের ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে জানান, গাজাজুড়ে অব্যাহত বোমাবর্ষণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি ইসরায়েলের স্পষ্ট অবজ্ঞার প্রতীক। তিনি অভিযোগ করেন, ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যত প্রতিদিনই লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং বাস্তবে যুদ্ধ থামানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রকাশিত সংবাদের তথ্য মতে, এটি ছিল একটি রক্তাক্ত রাত। ইসরায়েলি বাহিনী একাধিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে কাছাকাছি স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েল গাজায় ন্যূনতম প্রশাসনিক সেবা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। ফলে পুলিশসহ বেসামরিক সেবাগুলোর পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে গাজা ক্রসিংস অ্যান্ড বর্ডারস অথরিটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ৫০ জন ফিলিস্তিনি মিশরে প্রবেশ করেছেন, যার মধ্যে ১৩ জন রোগী ও ৩৭ জন তাদের সঙ্গী। একই দিনে ৪১ জন গাজায় ফিরে এসেছেন। বহু মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে চান, তবে ইসরায়েলের কড়াকড়ির কারণে যাতায়াত সীমিত রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ২৮৬টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে—এর মধ্যে ১৭৪টি বাণিজ্যিক পণ্য ও ১১২টি ত্রাণবাহী ট্রাক। তবে মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, গাজার জনগণের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন অন্তত ৬০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রয়োজন। চলমান অবরোধ ও হামলার কারণে রমজান মাসেও খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরবরাহে সংকট অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল ৩৭টি ত্রাণ সংস্থাকে আগামী ১ মার্চের মধ্যে তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে, অন্যথায় কার্যক্রম বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের তথ্য প্রদান কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং মানবিক কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, অক্সফাম, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও কেয়ার ইন্টারন্যাশনালসহ ১৭টি আন্তর্জাতিক এনজিও ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। অক্সফাম সতর্ক করে বলেছে, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব পুরো মানবিক ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে পড়বে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর এর পর থেকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর ইসরায়েলের চাপ ক্রমেই বেড়েছে, যা বর্তমানে নতুন করে সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কেএম
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ পাকিস্তানের হামলায় তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহতের গুঞ্জন
- ২ সীমান্ত সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ, মানবিক আইন মানার আহ্বান
- ৩ আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সৌদি-পাকিস্তান আলোচনা
- ৪ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬, তীব্র হচ্ছে মানবিক সহায়তা সংকট
- ৫ ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে, তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি