নিউ ইয়র্ক টাইমস বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্সি নিয়ে ‘জুয়া’ খেলেছেন ট্রাম্প!
ছবি: জাগো নিউজ
ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ‘জুয়া’।
একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সেনাদের মৃত্যু, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের বিস্তার-সব মিলিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এখন খাদের কিনারায়।
‘শান্তিপ্রীয়’ ট্রাম্প বনাম যুদ্ধের বাস্তবতা
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় ট্রাম্প সাতটি দেশে সামরিক অভিযানের অনুমতি দিয়েছেন। অথচ নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি যুদ্ধ শেষ করবেন এবং নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করবেন না।
এমনকি অভিষেক ভাষণে তিনি নিজেকে একজন ‘শান্তিপ্রীয় নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যার ফলে ট্রাম্পের অ্যাপ্রুভাল রেটিং বা জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এমন আশঙ্কার মাঝেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের জন্য এটি একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক ব্যর্থতার আতঙ্ক
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য বরাবরই ‘অভিশাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ তার রাজনৈতিক ইমেজ ও উত্তরাধিকারকে কলঙ্কিত করেছিল।
১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের অধীনে ইরানে মার্কিন জিম্মিদের উদ্ধারে ব্যর্থ অভিযান তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল।
ট্রাম্পের বর্তমান পদক্ষেপ তাকে সেই একই পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ হোয়াইট হাউসের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অনড় অবস্থান
এত সব ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে চিত্রিত করছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করাকে তিনি নিজের বড় অর্জন হিসেবে প্রচার করছেন।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাতগুলো আসা এখনো বাকি।
এছাড়া গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান একই রকম শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়, ইরানে হামলা চালিয়ে তার শাসনামলের সবচেয়ে বড় জুয়া খেললেন ট্রাম্প।
কেএম
টাইমলাইন
- ০৮:২৫ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক হামলার শঙ্কা বাড়ছে: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ০৭:৪৯ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ যুদ্ধের ব্যয় সপ্তাহে ৩০০ কোটি ডলার, অর্থনৈতিক সংকটে ইসরায়েল
- ০৭:১২ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ রণকৌশলে আইআরজিসি’র নতুন চমক ‘সুইসাইড ড্রোন’, দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র
- ০৬:৫৬ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ ভারত মহাসাগরে থাকা মার্কিন রণতরী ও ট্যাঙ্কারে সফল হামলার দাবি ইরানের
- ০৫:৫৮ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ চার্টার্ড ফ্লাইটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৯ হাজার মার্কিনির ঐতিহাসিক প্রস্থান
- ০৫:৩২ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ ৫০ হাজার সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান নিয়ে ইরানে নজিরবিহীন মার্কিন হামলা
- ০৫:০০ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ ইরানের হামলায় ৪ দিনে ২০০ কোটি ডলারের মার্কিন সরঞ্জাম ধ্বংস
- ০৪:৩৭ পিএম, ০৪ মার্চ ২০২৬ রুশ প্রযুক্তির ইরানি ইয়াক-১৩০ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত: আইডিএফ