উড়ালসেতু ট্রাজেডি: নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা, নিহত ২৫
কলকাতার উড়ালসেতু ট্রাজেডি ক্রমেই বড় হচ্ছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ব্রিজের নিচ থেকে মোট ২৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। বৃষ্টির কারণে গভীর রাতে উদ্ধারকাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হলেও ভোর রাত থেকে পুরোদমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন ভারতের সেনা বাহিনী, বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনী এবং কলকাতা পুলিশ।
উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, কমিটিতে খড়গপুর আইআইটির ইঞ্জিনিয়ারদের রাখা হয়েছে। ২০০৯ সালে বামফ্রন্টের সময় থেকে উড়ালপুলের কাজ শুরু হয়। চার বছর পর ২০১২ সালে উড়ালসেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জনবহুল অঞ্চল বলে নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তাই এখনও কাজ চলছে। দক্ষিণ ভারতের আইভিআরসিএল নামের একটি সংস্থা বিবেকানন্দ উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ করছে। তবে এর পুরোটাই দেখভাল করছে রাজ্য সরকারের কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপম্যান্ট বা কেএমডি। যদিও মমতা তার নিজের সরকারের কাধ থেকে উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই উড়ালসেতুর কাজ শুরু হয়েছিল বামফ্রন্টের সময়। ফলে তারাই এটা ভাল বলতে পারবেন।
বিবেকান্দ উড়ালসেতুর গণেশ স্টকিজ মোড়ের ওপর ভেঙে পড়া স্লেবের বড় অংশের মধ্যে মোটামোটি অনেকটাই কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে কংক্রিটের কিছু অংশ এখনও সরানো সম্ভব হয়নি। ওই অংশের নিচে নতুন করে কারো চাপা পড়ে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।
অন্য স্লেবটির সরানোর কাজে এখনও হাত লাগায়নি উদ্ধারকারি দল। ওই স্লেবটি বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে সরাতে হবে। কারণ ওই স্লেবটির একটি অংশ মূল ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে। ওই স্লেব সরানোর সময় কোনও রকম ঝাকুনি লাগলে বাকি স্লেব গুলোও পড়ে যেতে পারে এবং তখন উদ্ধারকারি দলের সদস্যদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। ফলে দ্বিতীয় স্লেবটি উদ্ধারে বিশেষ সতর্কতা নিতে হবে বলেই সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, যে কারণেই হোক কিংবা যার গাফিলতিতেই হোক না কেন এই ধরণের ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি হবে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ফোন করে দুর্ঘটনার খোঁজখবর নেন। মোদি এই বিপর্যয় মোকাবেলায় সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য সরকারের কাছে কলকাতার অন্য উড়ালসেতুগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখে দ্রুত তার কাছে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরি নাথ ত্রিপাঠী।
বিবেকানন্দ উড়ালসেতুর ঠিকাদারি সংস্থা ছিল দক্ষিণ ভারতের আইভিআরসিএল। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই সংস্থার প্রধানকর্মকর্তা কে পি রাও গণমাধ্যমের কাছে এই ঘটনার জন্য ঈশ্বরকে দোষারোপ করেছিলেন। তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনা ঈশ্বরই কেবল করতে পারেন।
ওই কর্মকর্তার এই মন্তব্য ঘিরে দেশ জুড়ে তীব্র বির্তক শুরু হয়েছে। কলকাতা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার মানিকতলা অফিস সিল করে। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের দুটি মামলাও দায়ে করা হয়।
টিটিএন/এবিএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ সীমান্ত সংঘর্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ, মানবিক আইন মানার আহ্বান
- ২ আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সৌদি-পাকিস্তান আলোচনা
- ৩ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬, তীব্র হচ্ছে মানবিক সহায়তা সংকট
- ৪ ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হয়েছে, তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনি
- ৫ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত চলছে গোলাগুলি