রমজানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে স্থগিত
১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল হাইকোর্টের/ফাইল ছবি
পুরো রমজানে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সব নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। পরে তিনি আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল রোববার রমজান ঘিরে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি সব নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
আরও পড়ুন
পুরো রমজানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে ওইদিন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল ও অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।
রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ২০ জানুয়ারি রিট দায়ের করেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল। সেই নোটিশের জবাব না পাওয়ায় রিট দায়ের করা হয়েছিল।
নোটিশে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে—এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না; অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যে কোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজানে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
আরও পড়ুন
রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’
সেখানে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়। এতে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার আশঙ্কা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এছাড়া রমজানে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়—যা কারও কাম্য নয়। তাই রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।
এফএইচ/এমকেআর