রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’
আসন্ন পবিত্র রমজানে সব ধরনের মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। এতে রোজায় প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর বলছে, তারা একটি বাৎসরিক ছুটির তালিকা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তাতে রমজান, ঈদুল ফিতরসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে ১৯ দিন বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।
অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি এখনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে কি না, জানি না। তাতে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রোজা, ঈদসহ কয়েকটি ছুটি রয়েছে। শুক্র ও শনিবারসহ সেখানে মোট ছুটি ১৯ দিন। এর বাইরে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
আরও পড়ুন
পুরো রমজানে মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
হাইকোর্টের আদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি জানিয়ে উপ-পরিচালক জয়নাল আবদীন বলেন, যতদূর জেনেছি, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে বলা হয়েছে। প্রাথমিকের কথা আমরা জানতে পারিনি। সেক্ষেত্রে অধিদপ্তর ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি রেখেছে। এটা থাকবে নাকি পরিবর্তন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রশাসন সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষকদের আন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। এতে ক্লাস কম হয়, থেকে যায় শিখন ঘাটতি। এ ঘাটতি পূরণে এবার ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এ কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো রমজানের প্রথম ১৫ থেকে ১৮ দিন খোলা রেখে বাৎসরিক শিক্ষাপঞ্জি বা ছুটির তালিকা তৈরি করা হয়েছিল।
তবে রমজানে স্কুল বন্ধ চেয়ে করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটি দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রাথমিকের বিষয়ে এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। আর কর্মরত শিক্ষক সাড়ে তিন লাখেরও বেশি। রমজানে শিক্ষক-অভিভাবকরা সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এএএইচ/এমকেআর