কলেজ ছাত্র ইকরাম হত্যা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর খিলক্ষেতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র ইকরাম হোসেন মোল্লাকে (২২) পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০১/৩৪ ধারায় লাশ গুমের অপরাধে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সিদ্দিক (২৩) ও মো. শান্ত মিয়া (২২)। রায় ঘোষণার সময় আসামি সিদ্দিক আদালতে হাজির থাকলেও শান্ত মিয়া পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু শান্ত মিয়া ও সিদ্দিক। এরপর খিলক্ষেত থানাধীন পাতিরা ও ডুমনি এলাকার মাঝামাঝি বসুন্ধরা বালুর চরে নিয়ে তাকে হাতুড়ি ও ভোমর দিয়ে আঘাত করে এবং এন্টিকাটার দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশে পাশের একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ৬ মে পুলিশ ওই স্থান থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৭ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিল।
তদন্তকালে জানা যায়, আসামি শান্ত মিয়া ভুক্তভোগী ইকরামের কাছ থেকে ব্যবসার জন্য ২ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন, যা পরিশোধ না করা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই আক্রোশ থেকেই বন্ধু সিদ্দিককে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি। গ্রেফতারের পর আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
এমডিএএ/এএমএ