ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

তাজুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি বললেন ব্যক্তিগত ক্ষোভ

সাইফুন নাহার রত্না | প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। সেই আন্দোলনে রক্ত ঝরেছে বহু ছাত্রের। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ছাত্র হত্যার বিচার শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ২২ ফেব্রুয়ারি তার নিয়োগ বাতিল হলো। ঠিক সেই সময়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিথ্যা-বানোয়াট ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বলছেন তাজুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর পদে রদবদল

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। তার পরিবর্তে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে তাজুল ইসলামকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি জুলাই আন্দোলনের অধিকাংশ মামলা পরিচালনার কাজ করেছেন।

তাজুলের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ

চিফ প্রসিকিউটরের পদ ছাড়ার দিনই তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেন ট্রাইব্যুনালেরই একজন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে’ টাকা আয়ের হাতিয়ার করেছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।

তাজুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি বললেন ব্যক্তিগত ক্ষোভ

কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। সেই দুই মন্তব্যে তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন তিনি।

তাজুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি বললেন ব্যক্তিগত ক্ষোভ

তাজুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তিনি বললেন ব্যক্তিগত ক্ষোভ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন এবং আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজালুল হককে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং চানখাঁরপুল এলাকায় ‘গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া’ একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করার অভিযোগও করেন তিনি।

অভিযোগ নিয়ে তাজুল ইসলামের বক্তব্য

চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ বাতিলের পর দুপুরেই ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাজুল ইসলাম। তখন তাকে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের করা অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে সময় তাজুল ইসলামের পাশেই ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমও।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে। যেগুলো উনি (প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ) আগে কখনও করেননি, শেষ মুহূর্তে তিনি অভিযোগ আনছেন। এগুলোকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন।

জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হচ্ছে কে কী অভিযোগ করছে, এগুলো আমরা আমলে নিচ্ছি না। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ থেকে কে কী বলছে, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ উনি স্পষ্টভাবে একটি অভিযোগ এনেছেন। এই তামীম সাহেবকে উদ্ধৃত করে যে ওনার (তামীম) রুমে এসআই আবজালুলের ওয়াইফ ভারী একটা ব্যাগ নিয়ে এসেছে। সেটা আপনাকে জানিয়েছে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘না, এটা আমার জানা নেই।’

ওই সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে জানিয়েছে, সেটাও বলেছে।’ তখন তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ জাতীয় অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এগুলো সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা। ব্যক্তিগত হিংসা চরিতার্থ করার জন্য যদি কেউ এই ধরনের কথা বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, এইখানে ট্রাইবুনালে বিচারপ্রক্রিয়াতে যা কিছু হয়েছে সব ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) এবং সেটা আদালতের মাধ্যমে কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং আজকে এই মুহূর্তে যদি কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো মিথ্যা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের গোটা জনগণ সাক্ষী, মিডিয়া সাক্ষী। আপনারা জানেন যে কী ধরনের ট্রান্সপারেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ, দু-একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভের থেকে সে বুঝে হোক, না বুঝে হোক যদি বলে, সেগুলোকে আমরা ধর্তব্যের মধ্যে মনে করি না।’

এর আগে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। আমরা যেন ছাত্রদের আত্মত্যাগের কথা ভুলে না যাই। এসময় তিনি মামলার কার্যক্রম ও অগ্রগতিও তুলে ধরেন। তাজুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকার এসেছে, এখন তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাদের লোকজনই দায়িত্ব নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বিগত সময়ে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের স্বজনরা যেন সঠিক বিচার, ন্যায়বিচার পান।

নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি।

এসএনআর/এমএমএআর/এএসএম