ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

মুন্সিগঞ্জে প্রবাসী শ্যামল হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে প্রবাসী শ্যামল বেপারীকে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এ দণ্ড ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে ইব্রাহিম এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে লিটন, এমদাদ ও হাবিব পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অপরদিকে আদালতে উপস্থিত আসামিদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন শ্যামল। পূর্ব বিরোধের জেরে রাত প্রায় ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে তাকে ডেকে তোলেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত তার হাতে গুলি করেন। জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহিমও গুলি চালান। আরও কয়েকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। সেই সঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরের বাইরে উঠানে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর জখম হন।

এদিকে, গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিদের কয়েকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোনে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম মিয়াকে জানান। এরপর তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লিপন সরকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মামলার বিচার চলাকালে ৩৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আসামি শাহাদাত ও হায়াতুল নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এমডিএএ/একিউএফ