সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিনের আগাম জামিন আবেদন ফেরত
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন/ ফাইল ছবি
পৃথক তিন মামলায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের আগাম জামিন চেয়ে করা পৃথক আবেদন ফেরত দিয়েছেন হাইকোর্ট। নিয়ম অনুযায়ী আগাম শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত থাকতে হয় আবেদনকারীর। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে হাজির হননি জামিন আবেদনকারী।
তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আবেদনগুলো কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে) করতে আদেশ দেন।
আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় হত্যার অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে শাহবাগ থানায় করা পৃথক দুটি মামলায় গত রোববার আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি আবেদন করেন এ এম আমিন উদ্দিন।
আবেদন তিনটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ক্রমিকে ছিল। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ইউসুফ খান রাজীব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
আরও পড়ুন
ক্রসফায়ারে হত্যার বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে
সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল কারাগারে
জুলাই-আগস্টের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় ১৬০ জনের বেশি আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওই হত্যা মামলা করা হয় বলে জানিয়ে আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এই তিন মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আগাম জামিন আবেদন শুনানির সময় আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হয়। তবে জামিন আবেদন ঘিরে একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করেন, মব সৃষ্টির শঙ্কাও দেখা দেয়। এ অবস্থায় নিজের ও আইনজীবীর নিরাপত্তা এবং আদালতের ভাবমূর্তি বিবেচনায় আদালতে হাজির হননি আবেদনকারী। তাই জামিন আবেদন ফেরত নেওয়ার আরজি জানানো হয়। আদালত আবেদনগুলো ফেরত দিয়ে কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে) করে দিয়েছেন।
২০২০ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে একই বছরের ১১ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বরাবর ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট অব্যাহতিপত্র দেন এ এম আমিন উদ্দিন।
এফএইচ/কেএসআর