তৃতীয় দফায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন রিমান্ডে
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী/ফাইল ছবি
মানবপাচার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে তৃতীয় দফায় ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. রায়হানুর রহমান। আজ তার বিরুদ্ধে আরও ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে দাবি করেন, আসামি সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা বলেন, এখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন বাকি রয়েছে, তাই অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, এ মামলায় ইতোমধ্যে তাকে দুই দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে স্পষ্ট কিছু তুলে ধরা হয়নি। তার দাবি, এটি মানবপাচার মামলা হলেও তদন্তে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি নেই এবং আত্মসাতের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি রিমান্ডের যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ৭২ বছরের বেশি বয়সী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ; তার ব্রেইন সার্জারি হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রে রিং বসানো রয়েছে। এ অবস্থায় বারবার রিমান্ডে নেওয়া মানবিক দিক থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ।
শুনানি শেষে এজলাস থেকে নামার সময় নিজের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হয়রানিমূলক এবং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, জনশক্তি রপ্তানি খাতে সিন্ডিকেট তৈরি করে আসামিরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ বিভিন্নভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান।
এমডিএএ/জেএইচ