ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: আসামি ইমান উল্লাহ ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি মো. ইমান উল্লাহকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে ইমান উল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। পরদিন আজ শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল দুপুরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানায় মজুত দাহ্য পদার্থ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রেফতার আসামি ইমান উল্লাহ এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। তার নেতৃত্বে অন্যান্য সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিল। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কদমতলী এলাকার একটি গলিতে অবস্থিত ‘মেসার্স এসার গ্যাস প্রো’ নামে ওই কারখানায় দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে অবৈধভাবে কার্যক্রম চলছিল। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক, যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল, কাজ করতেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানাটি বন্ধ ও সিলগালা করলেও সংশ্লিষ্টরা গোপনে পুনরায় কার্যক্রম চালু রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তারা জনবহুল এলাকায় বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল রানা তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অন্য দুই আসামি হলেন কারখানার মালিক আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।

এমডিএএ/এমএএইচ