ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

শিবগঞ্জে ভাইবোনকে খুন: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড কমে যাবজ্জীবন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:২৫ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

দেড় যুগ আগে বগুড়ার শিবগঞ্জে দুই শিশু ভাইবোনকে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী শফিকুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানান যায়, ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিবগঞ্জের আটমুল মোঘলপাড়া গ্রামের মুসা প্রামানিকের মেয়ে রহিমা খাতুন (৮) ও ছেলে আবদুর রহিমকে (৬) অপহরণের পরিকল্পনা করে আসামিরা। সে অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২ নভেম্বর দুপুরে মাহফুজুল ওই দুই শিশুকে মাছ দেওয়ার প্রলোভনে আটমুল মাঠের রজনীকুড়ি ডোবায় ডেকে নিয়ে যায়। শিশুরা সেখানে গেলে আসামিরা তাদের অপহরণের চেষ্টা করে। সেসময় শিশুরা চিৎকার দিলে আসামিরা তাদের গলাটিপে হত্যা করে। এরপর লাশ একটি ধানক্ষেতে ফেলে দেয়।

শিশু রহিমা ও রহিম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি করে। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়। ঘটনার সাতদিন পর ৯ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে আটমুল মাঠে ধানক্ষেতে দুই ভাইবোনের পঁচন ধরা লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

এ ব্যাপারে তাদের বাবা মুসা প্রামানিক শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন- শিবগঞ্জের আটমুল মোঘলপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে মাহফুজুল হক, একই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আকতার হোসেন আতাউর ও একই এলাকার আলতাফ আলী প্রামানিকের ছেলে আবুল কালাম বাদশা।

বিচার শেষে ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামি আবুল কালাম ওরফে বাদশা এবং মো. মাহফুজুলকে মৃত্যুদণ্ড এবং আতাউরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় আপিল করেননি।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত জানান, সব আসামি পলাতক।তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনের ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এফএইচ/ইএ/জেআইএম