নোভারটিসের শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত চেয়ে রিট শুনানি মূলতবি
শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অর্থপাচার রোধে নোভারটিস বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিটের বিষয়ে শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
শুনানিতে দুদক আদালতকে জানায় নোভারটিস বাংলাদেশ ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিষয়টি নিয়ে শুনানি এক মাসের জন্য মুলতবি (স্ট্যান্ড ভার) করে আদেশ দেন।
রিটেরপক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উস সাদিক চৌধুরী আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান।
এর আগে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) এ রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার নূর উস সাদিক চৌধুরী।
রিটে অর্থ সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, শিল্প সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ১০ জনকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়েছে। রিটে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কর্তৃক নোভারটিসের শেয়ার অধিগ্রহণে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি শেয়ার হস্তান্তরের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।
শুনানির সময় দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান, তারা এক মাসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবেন। এতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে দুদকের রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত এক মাসের জন্য মামলাটি মুলতবি রাখার (স্ট্যান্ডওভার) নির্দেশ দেন।
আজ বিষয়টি নিশ্চিত করে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকতান্দার হোসাইন হাওলাদার বলেন, আদালত নোভারটিস বাংলাদেশ ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে দুদকের আইনজীবীর এক মাসের মধ্যে তদন্তের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি মুলতবি রাখা হয়েছে।
এর আগে নোভারটিসের ২৩০ কোটি টাকার শেয়ার হস্তান্তর প্রতিরোধে ৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোভার্টিস বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৩০ কোটি টাকার প্রায় ১০ লাখ শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সংশ্লিষ্টদের ওই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এই শেয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বৈদেশিক বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
নোটিশে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি নোভারটিম বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ শেয়ার অর্থাৎ ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬ শেয়ার বিক্রির চেষ্টা চলছে। শেয়ারগুলো ২৩০ কোটি টাকায় রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে বিক্রয়ের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। এরইমধ্যে ক্রয় বিক্রয় প্রক্রিয়াটি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের কর্নধার শেখ হাসিনা সরকারের বৈদেশিক বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিন্তু অপেক্ষাকৃতভাবে কম পরিচিত রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। সালমান এফ রহমানের অবর্তমানে রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বর্তমানে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভাল করছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার মূল্য বিবেচনায় না নিয়ে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এমতাবস্থায় প্রকৃত বাজার মূল্যে ব্যতিরেকে অনাবাসী শেয়ার ধারকদের অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অধীনে অপরাধ। রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং আলোচ্য অনাবাসী শেয়ার ধারকের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য প্রদর্শন করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করার চেষ্টা করছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি পতিত স্বৈরাচার সরকারের সর্বশেষ একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে শেখ হাসিনার নির্দেশে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নোটিশে বলা হয়, আলোচ্য শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় শেয়ারের প্রকৃত বাজার মূল্য অপেক্ষা, অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এফএইচ/এসএনআর/জেআইএম