কনফেশন ডে
আপনি কি নিজের সঙ্গে সৎ হতে প্রস্তুত
ভ্যালেন্টাইনস ডে চলে গেছে পাঁচদিন আগে। ফুল, চকলেট, প্রপোজ - সব শেষ। কিন্তু মনের ভেতর কি কিছু কথা রয়ে গেছে? এমন কিছু অনুভূতি, যা বলা হয়নি?
আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) পালিত হয় কনফেশন ডে – যা অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস সপ্তাহের পঞ্চম দিন। এই দিনটি ভালোবাসার ঘোষণা নয়, বরং আবেগের সততা আর না-বলা কথার মুখোমুখি হওয়ার দিন।
অ্যান্টি-ভ্যালেন্টাইনস উইক কী?
ভ্যালেন্টাইনস ডে’র পর ১৫ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় একটি ধারাবাহিক ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে - যেখানে রয়েছে স্ল্যাপ ডে, কিক ডে, পারফিউম ডে, ফ্লার্ট ডে - আর তারই একটি অংশ কনফেশন ডে। এই দিনগুলোর মূল বার্তা আসলে একটাই - পুরনো সম্পর্ক, না-বলা কথা ও মানসিক জট খুলে সামনে এগোনো।

কী স্বীকার করবেন?
কনফেশন মানেই প্রেমের প্রস্তাব নয়। এটি হতে পারে –
>> কারও কাছে ক্ষমা চাওয়া
>> দীর্ঘদিনের অভিমান ভাঙা
>> নিজের ভুল স্বীকার করা
>> কিংবা নিজের অনুভূতিকে নিজের কাছেই স্বীকার করা
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, না-বলা অনুভূতি দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা মানসিক চাপ বাড়ায়। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আবেগ প্রকাশ মানসিক স্বস্তি ও সম্পর্কের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বলবেন কীভাবে?
প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন - আপনার উদ্দেশ্য কী? আপনি কি সম্পর্ক মেরামত করতে চান, নাকি নিজের মনের ভার কমাতে চান? কথা বলার সময় দোষারোপ নয়, ‘আমি’ দিয়ে বাক্য শুরু করুন। যেমন, তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ – একথা না বলে, বলুন - আমি কষ্ট পেয়েছিলাম।
মনে রাখবেন, কনফেশন জোর করে হয় না। অপরপক্ষ আপনার কথা শুনতে প্রস্তুত না থাকলে তাকে সময় দিন।

সব সত্য কি বলা উচিত?
তবে মনের সব অনুভূতি প্রকাশ করাই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কখনও কখনও নিজের ভেতর স্বীকার করাও যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আবেগ প্রকাশের আগে পরিস্থিতি, সময় ও সম্পর্কের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি।
কনফেশন ডে কোনো সরকারি ছুটি নয়, আইনি স্বীকৃত উৎসবও নয়। এটি মূলত একটি সামাজিক প্রবণতা - যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আবেগ চেপে রাখার চেয়ে তা সম্মানের সঙ্গে প্রকাশ করাই ভালো।
তাহলে এই ১৯ ফেব্রুয়ারি, আপনি কি নিজের মনের সঙ্গে সৎ হতে প্রস্তুত?
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, সাইকোলজি টুডে
এএমপি/এএসএম