ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

ওজনের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজার প্রভাব কি একইরকম

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

খাবারের সময়সীমা সীমিত করা - এই ধারণা নতুন নয়। ধর্মীয় উপবাস বা ফাস্টিং হাজার বছরের চর্চা। আর আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু প্রশ্ন হলো - রমজানের রোজা ও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের উপকার কি এক?

বিষয়টি বোঝার জন্য আগে বিষয় দুটি সম্পর্কে একটু জানা দরকার।

দুটি বিষয়ের মিল কোথায়?

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সাধারণত ১৬:৮ বা ১৮:৬ প্যাটার্নে করা হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময় খাবার, বাকি সময় উপবাস। আর রমজান মাসে ধর্মীয় আচার হিসেবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা হয়। দুই ক্ষেত্রেই শরীর বেশ কয়েক ঘণ্টা খাবার ছাড়া থাকে, ফলে ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং শরীর শক্তির উৎস হিসেবে সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার শুরু করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকলে -

>> ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়

>> ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

>> কোষের মেরামত প্রক্রিয়া বা অটোফ্যাজি সক্রিয় হয়

তাহলে পার্থক্য কোথায়?

সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো - পানি পান করা। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে সাধারণত পানি, চিনি ছাড়া চা বা কফি গ্রহণ করা যায়। কিন্তু রোজায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানি পানও নিষিদ্ধ। ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়।

আরেকটি পার্থক্য হলো খাবারের ধরন ও পরিমাণ। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রোজায় ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে ওজন কমার বদলে বাড়তেও পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ফাস্টিংয়ের উপকার নির্ভর করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর। শুধু না খেয়ে থাকা যথেষ্ট নয়; কী খাচ্ছেন ও কতটুকু খাচ্ছেন - সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ওজনের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও রোজার প্রভাব কি একইরকম

অটোফ্যাজি কি দুই ক্ষেত্রেই হয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ক্যালোরি সীমিত থাকলে কোষে অটোফ্যাজি সক্রিয় হতে পারে -যা ক্ষতিগ্রস্ত কোষীয় উপাদান পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে ঠিক কত ঘণ্টা উপবাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় - তা এখনো পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়। তাই রোজা ও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে অটোফ্যাজির মাত্রা একই হবে - এমন নিশ্চিত দাবি করা যায় না।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় প্রভাব

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ করলে উল্টো প্রভাবও দেখা যায়।

সংক্ষেপে বলা যায় - দুই পদ্ধতির মধ্যে কিছু জৈবিক মিল আছে, বিশেষ করে ইনসুলিন ও চর্বি বিপাকে। তবে রোজা একটি ধর্মীয় অনুশীলন, যার সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মাত্রা যুক্ত। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মূলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক খাদ্যপদ্ধতি।

সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন

এএমপি/জেআইএম

আরও পড়ুন