রমজানে রাত জেগে ফোন ব্যবহারে অনিদ্রা বাড়তে পারে
সংগৃহীত ছবি
রোজার সময় অনেকের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আসে। ইফতার, তারাবি ও সেহরির কারণে ঘুমের সময় পিছিয়ে যায়। এর সঙ্গে যোগ হয় গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখা, ভিডিও দেখা বা গেম খেলা-এসব কারণে অনেকে অজান্তেই রাত জেগে থাকেন। কিন্তু এই অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় সমস্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অনিদ্রা বর্তমানে একটি বিশাল সমস্যা। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি সহজে ঘুমাতে পারেন না বা গভীর ঘুমে যেতে ব্যর্থ হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করে। অনেকেই বিছানায় যাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করেন। এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং ঘুম আসতে দেরি হয়। ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয় এবং একসময় অনিদ্রার রূপ নেয়।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থাকলে মানুষ খিটখিটে ও অস্থির হয়ে পড়েন। মনোযোগ কমে যায়, কাজের দক্ষতা হ্রাস পায় এবং মানসিক চাপ বাড়ে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে যায়। এ অবস্থায় অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই অনিদ্রার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনিদ্রা দূর করবেন যেভাবে
তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে বাড়িতেই অনিদ্রা প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমত, সময়মতো খাবার খাওয়া জরুরি। খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করা ভালো। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে।
ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা
ঘুমের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের আলো কমিয়ে বা নিভিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। চাইলে মৃদু সঙ্গীত শোনা যেতে পারে, যা মনকে প্রশান্ত করে এবং দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরের জৈবঘড়ি ঠিক থাকে।

সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা
সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। সকালে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরকে সজীব রাখে এবং সারা দিনের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অন্ধকারে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে চোখের সমস্যাও হতে পারে। পাশাপাশি অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিরা অনেক সময় বিষণ্ণতা বা অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই সুস্থ থাকতে হলে স্বাস্থ্যকর
জীবনধারা বজায় রাখা জরুরি।
গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ব্যবহার না করে সময়মতো ঘুমানো এবং সকালে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে অনিদ্রা ও অন্যান্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। একটি নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন ও অন্যান্য
আরও পড়ুন:
ঘুম গভীর করতে চাইলে এই অভ্যাসের চর্চা করুন
কিবোর্ডে টাইপ করলে হাতে ব্যথা? হতে পারে ডিস্টোনিয়া
এসএকেওয়াই/জেআইএম