পানিশূন্যতার সংকেত দেয় শরীরের যেসব ব্যথা
পানি কম খেলে যে তৃষ্ণা পায় - এ কথা সবাই জানেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না, শরীরের কিছু ব্যথা আসলে পানিশূন্যতার (ডিহাইড্রেশন) সতর্কবার্তা হতে পারে। শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ব্যথার পেছনে কখনও কখনও লুকিয়ে থাকে পানির ঘাটতি।
লক্ষণগুলো জানলে এই রমজান মাসে নিজের শরীরের অবস্থা জানা আপনার সহজ হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, শরীরের কোন কোন জায়গায় ব্যথা হলে পানিশূন্যতার কথা ভাববেন -

১. মাথাব্যথা
ডিহাইড্রেশনের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গগুলোর একটি হলো মাথাব্যথা। শরীরে পানি কমে গেলে রক্তের পরিমাণ সাময়িকভাবে কমতে পারে, এতে মস্তিষ্কে অক্সিজেন ও রক্তপ্রবাহ কমে মাথা ভারী লাগা বা ধকধক করতে পারে।

২. ঘাড় ও কাঁধে টান
পানি শরীরের কোষ ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য। পানিশূন্যতায় পেশি দ্রুত ক্লান্ত হয় এবং টান ধরতে পারে। ফলে ঘাড় ও কাঁধে শক্ত ভাব বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে - বিশেষ করে যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন।

৩. কোমর ও পিঠে অস্বস্তি
আমাদের মেরুদণ্ডের ডিস্কগুলোর একটি বড় অংশই পানি দিয়ে তৈরি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ডিস্কের স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে, যা অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি বাড়াতে পারে। যদিও সব পিঠব্যথার কারণ ডিহাইড্রেশন নয়, তবে দীর্ঘ সময় পানি কম খাওয়ার প্রভাবেও কোমর ও পিঠ ব্যথা করতে পারে।

৪. পেশিতে ক্র্যাম্প বা টান
ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের পর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট কমে গেলে পেশিতে ক্র্যাম্প হতে পারে। তবে পায়ের পেশিতে হঠাৎ টান ধরা - এটি অনেক সময় পানিশূন্যতার লক্ষণ। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, অতিরিক্ত তাপ ও ডিহাইড্রেশন হিট-ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. পেটব্যথা ও কোষ্ঠকাঠিন্যজনিত অস্বস্তি
পানি কম খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা হালকা পেটব্যথা হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কীভাবে বুঝবেন এটি পানিশূন্যতা?
শুধু ব্যথা নয়, সঙ্গে যদি থাকে -
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা
- গাঢ় রঙের প্রস্রাব
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- ক্লান্তি
- মাথা ঘোরা
তাহলে ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা বেশি।
পানি শূন্যতা শরীরে নানারকম সমস্যা তৈরি করতে পারে। এজন্য এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তাই নিয়মিত পানি পান করুন, তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা করবেন না।
গরমে বা ব্যায়ামের সময় পানির পরিমাণ বাড়ান। ফল, শাকসবজি ও তরল খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। প্রস্রাবের রঙ খেয়াল করুন।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ব্যথার কারণ পানিশূন্যতা নয়। যদি ব্যথা তীব্র হয়, দীর্ঘদিন থাকে বা অন্য গুরুতর উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), ন্যাশনাল একাডেমিজ অব সায়েন্স
এএমপি/এমএস