খেলার সময় শিশুর মাথায় আঘাত প্রতিরোধে ৫ জরুরি টিপস
স্কুল ছুটি, বিকেলে মাঠে দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে একটি ঝুঁকি - মাথায় আঘাত। হালকা পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে গুরুতর কনকাশন পর্যন্ত - মাথার চোট কখনোই অবহেলার বিষয় নয়।
গবেষণা বলছে, খেলাধুলা ও সাইকেল চালানোর সময়ই শিশুদের মাথায় আঘাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভয় দেখানো নয়, সচেতনতা গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
কেন মাথার আঘাত নিয়ে এত গুরুত্ব?
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানায়, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির বড় একটি অংশ ঘটে খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে।
মাথায় আঘাত লাগার পর মাথাব্যথা, বমি, ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ঘুম বা আচরণগত পরিবর্তন - এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা মূলত ব্রেইন ইনজুরির লক্ষণ। তাই প্রতিরোধই সেরা কৌশল। যেভাবে প্রতিরোধ করবেন -
১. সঠিক সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার
সাইকেল, স্কেটিং বা ক্রিকেট খেললে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার করুন। হেলমেট যেন মাথায় ঠিকভাবে ফিট করে - না খুব ঢিলা, না খুব টাইট।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বলছে, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হেলমেট মাথার গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
২. খেলার মাঠের পরিবেশ দেখুন
মাঠের মাটি খুব শক্ত কি না, ভাঙা যন্ত্রপাতি আছে কি না - এসব খেয়াল করুন। স্লাইড বা দোলনার নিচে নরম মাটি বা রাবারাইজড সারফেস থাকলে আঘাতের ঝুঁকি কমে।
বশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের আঘাত প্রতিরোধে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
৩. বয়স উপযোগী খেলা বেছে নিন
ছোট শিশুদের বড়দের সঙ্গে উচ্চগতির বা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা খেলতে দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী খেলা নির্বাচন করুন।
৪. ‘হেড-ফার্স্ট’ অভ্যাস নিরুৎসাহিত করুন
ফুটবল বা অন্য খেলায় ইচ্ছে করে মাথা ব্যবহার করা, বা উঁচু জায়গা থেকে মাথা নিচে দিয়ে লাফ দেওয়া - এসব অভ্যাস বিপজ্জনক। কোচ ও অভিভাবকদের উচিত নিয়মিত নিরাপদ কৌশল শেখানো।
৫. আঘাতের লক্ষণ জানুন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিন
পড়ে যাওয়ার পর শিশু যদি বিভ্রান্ত হয়, বারবার একই প্রশ্ন করে, বা আচরণ বদলে যায় - তাহলে সেটি কনকাশনের লক্ষণ হতে পারে।
মাথায় আঘাতের পর সন্দেহ হলে বিশ্রাম ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। “খেলা চালিয়ে যাও” ধরণের মানসিকতা বিপজ্জনক হতে পারে।
খেলাধুলা থামিয়ে দেওয়া সমাধান নয়। বরং নিরাপদ খেলার পরবেশ গড়ে তোলা জরুরি। সচেতনতা, সঠিক সরঞ্জাম ও দ্রুত ব্যবস্থা - এই তিনেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সূত্র: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক, ইউনিসেফ ইনজুরি প্রিভেনশন রিপোর্ট
এএমপি/এমএস