গর্ভাবস্থার বমিভাবের দায় কি মায়ের না বাবার
ছবি/এআই দিয়ে বানানো
গর্ভাবস্থার কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথম যে উপসর্গটির কথা আসে, তা হলো বমিভাব বা মর্নিং সিকনেস। গর্ভবতী নারীরা প্রায়ই বলেন - দিনের যেকোনো সময় হঠাৎ বমি বমি লাগে, খাবারের গন্ধে অস্বস্তি হয় বা অদ্ভুত ক্লান্তি কাজ করে।
অনেকে আবার গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য, পূর্বের লাইফস্টাইলকে দোষারোপও করেন। তবে এর পেছনের কারণ কি শুধু মায়ের শরীর, নাকি অন্য কিছু?
সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি শুধু মায়ের শরীরের পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভ্রূণের জিনগত গঠনও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে - যার অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে।
কেন হয় গর্ভাবস্থার বমিভাব
গর্ভধারণের পর শরীরে দ্রুত হরমোনগত পরিবর্তন শুরু হয়। বিশেষ করে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (এইচসিজি), প্রোজেস্টেরন ও এস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক নারীর বমিভাব, খাবারের প্রতি অরুচি বা ক্লান্তি দেখা দেয়।
এগুলো মূলত শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ। নতুন জীবনের বিকাশের জন্য শরীর নিজেকে দ্রুত বদলে নিতে শুরু করে, আর সেই পরিবর্তনের প্রভাবই নানা উপসর্গ হিসেবে প্রকাশ পায়।
ভ্রূণের জিনের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার বমিভাবের সঙ্গে জিডিএফ-১৫ নামের একটি প্রোটিনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এই প্রোটিন প্লাসেন্টা থেকে তৈরি হয় এবং এটি মস্তিষ্কের সেই অংশে প্রভাব ফেলে, যা বমিভাব ও ক্ষুধার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্লাসেন্টা ও ভ্রূণের জিনগত গঠনে মা ও বাবা দুজনেরই ডিএনএ থাকে। অর্থাৎ শিশুর জিনের অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে। সেই কারণে ভ্রূণের কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য মায়ের শরীরে হরমোনের প্রতিক্রিয়া এবং বমিভাবের তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাহলে কি ‘দোষ’ বাবার?
বাস্তবে এটাকে দোষ বলা ঠিক নয়। গর্ভাবস্থার এই পরিবর্তনগুলো একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে বলা যায়, গর্ভাবস্থার কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় ভ্রূণের জিন - যার অংশ বাবার কাছ থেকেও এসেছে - পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
এই কারণেই অনেক নারী মজা করে বলেন, ‘সব ওর দোষ।’ কথাটি যদিও হাসির ছলে বলা হয়, তবু এর পেছনে সামান্য বৈজ্ঞানিক সত্যও রয়েছে।
মানসিক সমর্থন কেন জরুরি
গর্ভাবস্থার সময় শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়তে পারে। বমিভাব, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা অনেক সময় দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় পরিবারের সমর্থন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গী, পরিবার বা বন্ধুদের সহানুভূতি গর্ভবতী নারীর মানসিক স্বস্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং পুরো অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে।
গর্ভাবস্থা শুধু একজন নারীর শারীরিক অভিজ্ঞতা নয়, এটি একটি যৌথ জৈবিক প্রক্রিয়া। নতুন জীবনের বিকাশে মা ও বাবার জিন একসঙ্গে কাজ করে। তাই গর্ভাবস্থার বমিভাব বা অস্বস্তির পেছনে শুধু মায়ের শরীরই নয়, ভ্রূণের জিনগত বৈশিষ্ট্যও ভূমিকা রাখে।
সূত্র: নেচার জেনেটিক্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/এএসএম