ডায়াবেটিস থাকলে স্বাস্থ্যের যে লক্ষণগুলো নিয়মিত খেয়াল করবেন
কিছু লক্ষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা আগেভাগেই ধরা সম্ভব। ছবি/সংগৃহীত
ডায়াবেটিস এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় ওষুধ খাওয়া ও খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখলেও শরীর ভেতরে ভেতরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়, যা শুরুতে খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই শুধু রক্তে শর্করার রিপোর্ট দেখলেই হবে না - নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনও নিয়মিত খেয়াল রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা আগেভাগেই ধরা সম্ভব। এতে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
১. বারবার পিপাসা ও প্রস্রাব
হঠাৎ করে বেশি পিপাসা লাগা বা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হওয়া রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এই পরিবর্তন নিয়মিত হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন।

২. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন ক্লান্ত লাগে, তাহলে সেটি ব্লাড সুগারের ওঠানামার ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস না বদলালেও যদি ওজন হঠাৎ কমে বা বেড়ে যায়, সেটি নজরে রাখুন।
৪. দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে চোখের লেন্সে প্রভাব পড়ে, ফলে ঝাপসা দেখা যেতে পারে।

৫. ক্ষত দেরিতে শুকানো
ছোট কোনো কাটা বা ঘা যদি সহজে না শুকায়, তাহলে এটি ডায়াবেটিসের জটিলতার লক্ষণ হতে পারে।
৬. হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব
স্নায়ুর ওপর প্রভাব পড়লে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা অবশ লাগতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ইঙ্গিত।
৭. ত্বকের সংক্রমণ বা চুলকানি
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা বারবার সংক্রমণ হওয়াও ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৮. ক্ষুধার পরিবর্তন
হঠাৎ খুব বেশি ক্ষুধা লাগা বা একেবারেই ক্ষুধা না লাগাও রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাবার এবং জীবনযাত্রার পাশাপাশি নিজের শরীরের এই সংকেতগুলো বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছোট ছোট বিষয় খেয়াল রাখলেই বড় জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
এএমপি/জেআইএম