ডায়াবেটিস রোগীরা সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাবারের মাঝে কী খাবেন
কেউ কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া বা পরে হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। ছবি/ এআই দিয়ে বানানো
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু তিন বেলার খাবার নয়, দিনের মাঝখানে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই সকাল ও দুপুরের মাঝে কী খাবেন তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া বা পরে হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই সময়টায় হালকা, পুষ্টিকর এবং কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া উচিত - যা ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা বাড়ায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। জেনে নিন এমন কয়েকটি খাবারের নাম -
১. বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
এক মুঠো কাঠবাদাম, আখরোট বা চিনাবাদাম ভালো স্ন্যাকস হতে পারে। এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে, যা রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
২. পরিমিত পরিমাণে ফল
পেয়ারা, আপেল বা কমলার মতো কম মিষ্টি ফল বেছে নেওয়া ভালো। তবে একবারে বেশি না খেয়ে ছোট পরিমাণে খাওয়া উচিত।
৩. চিনি ছাড়া দই
চিনি ছাড়া টক দই প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস। এটি হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক।
৪. সেদ্ধ ডিম
একটি সেদ্ধ ডিম সহজ ও পুষ্টিকর স্ন্যাকস। এতে প্রোটিন থাকে, যা দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কমায় এবং ব্লাড সুগার স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
৫. শসা বা গাজরের মতো কাঁচা সবজি
কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত এই সবজিগুলো রক্তে শর্করা না বাড়িয়ে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
৬. চিড়া বা ওটস
অল্প পরিমাণে চিড়া বা ওটস, সঙ্গে কিছু বাদাম বা দই মিশিয়ে খেলে তা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হতে পারে।
৭. ছোলা বা ডালজাতীয় খাবার
সেদ্ধ ছোলা বা অল্প পরিমাণ ভেজানো ডাল ভালো প্রোটিন ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা রক্তে শর্করার ওঠানামা কমায়।
এই সময়টায় অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া, বিস্কুট বা প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ এসব খাবার দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে পরে আবার কমিয়ে দেয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সঠিক সময়ে খাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝের এই ছোট খাবারটিকে অবহেলা না করে পরিকল্পিতভাবে বেছে নিন।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
এএমপি/জেআইএম