সারাদিন ক্লান্ত, রাতেও ঘুম নেই কেন?
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
সারাদিন কাজের চাপে শরীর একেবারে নিস্তেজ, চোখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, তবুও রাতে বিছানায় গেলেই যেন ঘুম পালিয়ে যায়। বরং মাথায় ঘুরতে থাকে অজস্র ভাবনা, অকারণ দুশ্চিন্তা।
এই অদ্ভুত অবস্থাকেই বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘ওয়্যারড-টায়ার্ড’ চক্র, যেখানে শরীর ক্লান্ত, কিন্তু মস্তিষ্ক ঠিকই সতর্ক ও সক্রিয়। এই সমস্যার পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ, যা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গেই গভীরভাবে জড়িত।
কেন হয় ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ অবস্থা?
স্ট্রেস হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ছন্দে চলে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। সাধারণত দিনে শরীর কর্টিসল হরমোন তৈরি করে আমাদের সক্রিয় রাখে, আর রাতে মেলাটোনিন তৈরি হয় ঘুমের জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা থাকলে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রাতে কর্টিসলের মাত্রা কমার বদলে বেড়েই থাকে, যা মস্তিষ্ককে সতর্ক রাখে এবং ঘুম আসতে বাধা দেয়।
স্ক্রিনের নীল আলোর প্রভাব
ঘুমানোর আগে ফোন, ল্যাপটপ বা টিভি দেখার অভ্যাস এখন অনেকেরই। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে ভুল বার্তা দেয়, যেন এখনো দিন শেষ হয়নি। এর ফলে মেলাটোনিন নিঃসরণ কমে যায়, আর ঘুম দূরে সরে যায়।
জমে থাকা চিন্তার চাপ
দিনভর ব্যস্ততার কারণে আমরা নিজের ভাবনা বা আবেগগুলোকে চাপা রাখি। কিন্তু রাতের নিরিবিলি সময়ে সেগুলোই হঠাৎ সামনে চলে আসে। ভবিষ্যতের চিন্তা, অতীতের স্মৃতি কিংবা অসমাপ্ত কাজ, সব মিলিয়ে মস্তিষ্ক তখন বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশান্ত অবস্থা তৈরি হয় না।
আরও পড়ুন:
কীভাবে এই চক্র ভাঙবেন?
এই সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়, তবে কিছু অভ্যাস বদলালে ধীরে ধীরে উন্নতি আসতে পারে। যেমন-
- ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি থেকে দূরে থাকুন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিশ্রামের সংকেত পেতে শুরু করবে।
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জাগার চেষ্টা করুন। এতে শরীর নিজের একটি স্বাভাবিক রুটিন তৈরি করে নেয়।
- ৪-৭-৮ পদ্ধতিতে শ্বাস নেওয়া (৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখা, ৮ সেকেন্ডে ছাড়ার অভ্যাস) স্নায়ুকে শান্ত করে এবং দ্রুত ঘুম আসতে সাহায্য করে।
- দুপুরের পর চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে ফেলুন। কারণ ক্যাফেইনের প্রভাব অনেকক্ষণ শরীরে থেকে যায় এবং ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়।
ঘুমকে অনেকেই অবহেলা করেন, কিন্তু এটি আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। তাই প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব, আর সেই পথই আপনাকে দেবে স্বস্তিদায়ক ও গভীর ঘুম।
তথ্যসূত্র: স্লিপ ফাউন্ডেশন, দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া
জেএস/