শেষ মুহূর্ত ছাড়া কাজে গতি আসে না? জানুন কারণ
ডেডলাইনের ঠিক আগে হঠাৎ করে মনোযোগ বেড়ে যায়, কাজও দ্রুত এগোয়। ছবি/এআই দিয়ে বানানো
কাজটা অনেক আগেই শুরু করার কথা ছিল, কিন্তু ঠিক শেষ সময় না এলে যেন হাতই চলে না - এমন অভ্যাস অনেকেরই আছে। ডেডলাইনের ঠিক আগে হঠাৎ করে মনোযোগ বেড়ে যায়, কাজও দ্রুত এগোয়। তখন মনে হয় - চাপ না থাকলে আমি কাজই করতে পারি না।
শুনতে পরিচিত লাগছে? এটি শুধু আলসেমি নয়, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের কাজ করার একটি নির্দিষ্ট ধরন।
কেন এমন হয়?
১. ডেডলাইনের চাপ মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে
শেষ সময় ঘনিয়ে এলে আমাদের মস্তিষ্ক বিষয়টিকে `জরুরি অবস্থা’ হিসেবে দেখে। তখন স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, মনোযোগ তীক্ষ্ণ হয় এবং কাজের গতি হঠাৎ বেড়ে যায়।
২. তাৎক্ষণিক তৃপ্তির প্রতি ঝোঁক
দীর্ঘমেয়াদি কাজের ফল পেতে সময় লাগে, কিন্তু মোবাইল স্ক্রলিং বা ছোটখাটো বিনোদন তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। তাই মস্তিষ্ক সহজ পথটাই বেছে নেয়, আর কাজটা পরের জন্য ফেলে রাখে।
৩. ব্যর্থতার ভয়
অনেক সময় কাজ শুরু করতে দেরি হয়, কারণ ভেতরে ভেতরে ভয় কাজ করে -ঠিকমতো করতে পারব তো? এই ভয় এড়াতে আমরা কাজটিই পিছিয়ে দিই।
৪. পারফেকশনিজম
সবকিছু নিখুঁতভাবে করার চাপ থাকলে অনেকেই কাজ শুরু করতে দেরি করেন। কারণ তারা শুরু থেকেই ‘পারফেক্ট’ হতে চান।
৫. কাজকে বড় ও জটিল মনে হওয়া
কাজটি যদি খুব বড় বা কঠিন মনে হয়, তাহলে মস্তিষ্ক সেটিকে এড়িয়ে যেতে চায়। ফলে আমরা অজান্তেই দেরি করতে থাকি।
এটি কি সমস্যা?
মাঝে মাঝে ডেডলাইনের শেষ মুহূর্তে কাজ শেষ করা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এটি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে কাজের মান কমে যেতে পারে, মানসিক চাপ বাড়ে ও সময় ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি এটি দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ ও ক্লান্তিও বাড়াতে পারে।
কীভাবে বদলাবেন এই অভ্যাস?
>> কাজকে ছোট ভাগে ভাগ করুন
বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলে শুরু করা সহজ হয়।
>> নিজেই ছোট ডেডলাইন ঠিক করুন
শেষ সময়ের আগে নিজের জন্য আলাদা সময়সীমা তৈরি করুন।
>> ডিসট্র্যাকশন কমান
কাজের সময় মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
>> শুরু করুন, নিখুঁত না হলেও চলবে
প্রথম ধাপে পারফেকশনের কথা না ভেবে শুধু শুরু করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ মুহূর্তে কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই থাকে, কিন্তু এটি সবসময় দক্ষতার লক্ষণ নয়। বরং এর পেছনে থাকে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কিছু প্রবণতা। সেগুলো বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলাতে পারলেই কাজের গতি ও মান - দুটোই উন্নত হবে।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এএসএম