রাতে খাবারের পর দই খাওয়া কি ভালো
দই একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে। ছবি/এআই দিয়ে বানানো
খাবারের পর দই খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষ করে রাতে ভারী খাবারের পর এক বাটি দই যেন হজমে স্বস্তি এনে দেয় - এমনটাই মনে করেন অনেকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাতে দই খাওয়া কি সত্যিই উপকারী, নাকি এতে কোনো সমস্যা হতে পারে?
পুষ্টিবিদদের মতে, দই একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তাই পরিমিত পরিমাণে দই খাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই উপকারী হতে পারে।
তবে রাতে দই খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাদের ঠান্ডা-সংবেদনশীলতা বা সর্দি-কাশির প্রবণতা আছে, তারা রাতে দই খেলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। কারণ দই শরীরে কিছুটা ঠান্ডা প্রভাব ফেলে, যা কারও কারও ক্ষেত্রে গলা বা নাকে সমস্যা বাড়াতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো হজম। যদিও দই হজমে সাহায্য করে, কিন্তু রাতে বেশি পরিমাণে খেলে বা ভারী খাবারের সঙ্গে খেলে কিছু মানুষের পেট ভার বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তাদের ক্ষেত্রে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে সব ক্ষেত্রেই যে রাতে দই খাওয়া ক্ষতিকর, তা নয়। বরং হালকা খাবারের পর অল্প পরিমাণে দই খেলে অনেকেরই হজম ভালো হয় এবং পেট আরাম লাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দই খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় সাধারণত দিনের বেলা। তবে রাতে খেতে চাইলে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। যেমন –
১. ঠান্ডা দই সরাসরি ফ্রিজ থেকে না খেয়ে একটু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে খাওয়া, অল্প পরিমাণে খাওয়া এবং খুব দেরি করে না খাওয়া।
২. ডায়াবেটিস থাকলে অবশ্যই রাতে মিষ্টি দই খাওয়া উচিত নয়। খেতে চাইলে টক দই বা চিনি ছাড়া দই পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।
অর্থাৎ, রাতে দই খাওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে এবং পরিমিতভাবে খাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ
এএমপি/এএসএম