ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটলে এক মাসে ওজন কি কমবে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে অনেকের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কিটো ডায়েট কিংবা ডিটক্স ড্রিঙ্কস সহ নানা আধুনিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। তবে এসবের মাঝেই সহজ একটি বিষয় প্রতিদিন ১ কিলোমিটার হাঁটার অভ্যাস আলোচনায় এসেছে।

হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা যে কোনো বয়সের মানুষ খুব সহজেই করতে পারেন। এর জন্য আলাদা কোনো যন্ত্রপাতি বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা শুধু শরীরের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে মন সতেজ থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং নিজের জন্য কিছুটা নিরিবিলি সময় পাওয়া যায়। পাশাপাশি এটি শরীরকে সচল রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

jago

১ কিমি হাঁটলে আসলে কী হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ কিলোমিটার হাঁটা একটি ভালো অভ্যাসের শুরু হলেও এটি একা উল্লেখযোগ্য ওজন কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ ওজন কমা নির্ভর করে শরীরের ক্যালোরি ব্যালান্সের ওপর।

গড় হিসেব অনুযায়ী, যদি কেউ প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটেন এবং খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না আনেন, তবে এক মাসে প্রায় ১২০০ থেকে ২০০০ ক্যালরি পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর ফলে শরীর থেকে আনুমানিক ০.১৫ থেকে ০.২৫ কিলোগ্রাম মেদ কমতে পারে। অর্থাৎ বড় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না। তবে এর ইতিবাচক দিক হলো শরীর সক্রিয় থাকবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে উঠবে।

ওজন কমা নির্ভর করে যেসব বিষয়ের ওপর

ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুধু হাঁটার দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না, বরং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।

শরীরের ওজন

শরীরের বর্তমান ওজন একটি বড় ফ্যাক্টর। যাদের ওজন বেশি, তারা একই পরিমাণ হাঁটায় তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি খরচ করেন।

বিএমআর

বিএমআর বা বেসাল মেটাবলিক রেট। কারো মেটাবলিজম ধীর হলে তার শরীরে ফ্যাট কমার গতি তুলনামূলক কম হয়।

হাঁটার গতি

সাধারণ হাঁটার চেয়ে দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াকিং (ঘণ্টায় ৫–৬ কিমি) অনেক বেশি কার্যকর। এতে হৃদস্পন্দন বাড়ে এবং ক্যালোরি খরচও বেশি হয়।

খাদ্যাভ্যাস

অনেকেই হাঁটার পর অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন, যা হাঁটার উপকারিতাকে নষ্ট করে দেয়। তাই নিয়ন্ত্রিত ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম

মানসিক চাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য (যেমন থাইরয়েড বা পিসিওএস) ওজন কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা জরুরি

অনেকেই দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশায় হাঁটা শুরু করেন, কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়েন। বাস্তবতা হলো, ১ কিমি হাঁটা ওজন কমানোর একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শরীরকে প্রস্তুত করে এবং ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

যদি আপনি সত্যিই ওজন কমাতে চান, তবে হাঁটার দূরত্ব ও সময় ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত। প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিটের ব্রিস্ক ওয়াকিং, সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম, এই তিনটির সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর।এছাড়া সপ্তাহে কয়েকদিন হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং যোগ করলে ফল আরও দ্রুত পাওয়া যায়।

প্রতিদিন ১ কিমি হাঁটা একটি ভালো অভ্যাস এবং সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ। তবে শুধু এই অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়।

সূত্র: ডেইলি হান্ট

এসএকেওয়াই

আরও পড়ুন