যে ৯ ফল খেলে হতে পারে গর্ভপাত
যে ৯ ফল খেলে হতে পারে গর্ভপাত
গর্ভধারণের পর প্রতিটি নারীকেই অনাগত সন্তানের কথা ভেবে খাবারের বিষয়ে সচেতন থকতে হয়। অনেক খাবার আছে যেগুলো গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ৯টি ফল যা গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় কোন কোন ফল খাওয়া নিষেধ
গর্ভাবস্থায় মা ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু ফল পুষ্টিকর হলেও গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, সেগুলো গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আনারস, কাঁচা পেঁপে, তেঁতুল এবং অতিরিক্ত খেজুরের মতো ফলগুলো জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। এছাড়াও হিমায়িত ও টিনজাত খাবার প্রিজারভেটিভের কারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে যেকোনো খাবার গ্রহণের আগে তার সঠিক প্রভাব সম্পর্কে জানা জরুরি। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় কোন ৯ ফল খাবেন না-

গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া কেন বিপজ্জনক?
প্রথম ত্রৈমাসিকের গর্ভাবস্থাকালে আনারস এড়িয়ে চলুন। কারণ আনারস খাওয়ার ফলে জরায়ুতে তীব্র সংকোচন হতে পারে। এর ফলস্বরূপ গর্ভপাতও ঘটতে পারে। আনারসে ব্রোমেলাইন থাকে। এটি একটি এনজাইম, যা প্রোটিনকে ভেঙে দেয়। ফলে জরায়ু নরম হয়ে অকাল প্রসব ঘটতে পারে। এজন্য গর্ভাবস্থায় কখনো আনারস খাবেন না।
গর্ভাবস্থায় আঙুর খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
গর্ভাবস্থায় আঙুর খাওয়াও এড়ানো উচিত। সবুজ ও কালো উভয় ধরনের আঙুরই ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে মিশ্র মতামত আছে। কারণ আঙুরে থাকা যৌগিক রেজভেরট্রোল গর্ভবতী নারীর জন্য বিষাক্ত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কালো আঙুরের চামড়া হজম করা কষ্টকর হতে পারে। কারণ এ সময় হজম ব্যবস্থা দুর্বল থাকে।
তেঁতুল কীভাবে গর্ভপাত ঘটাতে পারে?
গর্ভাবস্থায় টকজাতীয় কিছু খেতে ইচ্ছে হলেই তেঁতুলের কথা ভাবতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে। তেঁতুলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা গর্ভবতী নারীদের এড়ানো উচিত।
এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরের প্রোজেস্টেরনের উৎপাদনকে কমে যায়। ফলে গর্ভপাতও ঘটতে পারে। এমনকি ভ্রূণের কোষেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই গর্ভধারণের প্রথম ত্রৈমাসিকে খুব বেশি তেঁতুল খাবেন না। এড়িয়ে যেতে পারলে আরও ভালো।
কাঁচা বা পাকা পেঁপে কেন এড়িয়ে চলা উচিত?
পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ভিটামিন থাকলেও গর্ভবতীদের জন্য এই ফল ততটা উপযুক্ত নয়। কারণ পেঁপে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। এই ফল ল্যাটেক্সসমৃদ্ধ। যা জরায়ুর সংকোচন, রক্তপাত ও গর্ভপাত ঘটার কারণ হতে পারে। এটি ভ্রূণের বিকাশকেও বাঁধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা পাকা পেঁপে খাওয়া এড়ানোই ভালো।
সব নারীর জন্যই কি গর্ভাবস্থায় কলা খাওয়া ক্ষতিকর?
না, তবে যাদের অ্যালার্জি বা ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য কলা ক্ষতিকর হতে পারে। কলার চিটিনেস (ল্যাটেক্স জাতীয় উপাদান) শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং এতে প্রচুর চিনি থাকে।

তরমুজ খেলে ভ্রূণের কী ক্ষতি হতে পারে?
শরীর আর্দ্রতা ধরে রাখারা পাশাপাশি দেহ থেকে সব ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সক্ষম তরমুজ। তবে এর খারাপ দিকও আছে। তরমুজ শরীর থেকে টক্সিন বের করার সময় ভ্রূণেরও ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত তরমুজ রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে দেয় এবং এর ঠান্ডা প্রকৃতির কারণে গর্ভবতী মায়ের সর্দি হতে পারে।
যদিও এই ফল গর্ভবতীর জন্য ততটা খারাপ নয়, তবে এর খারাপ প্রভাব শরীরে পড়তে পারে। আবার তরমুজ অতিরিক্ত সেবনে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। কখনো কখনো তরমুজের মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য শরীর থেকে টক্সিনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলোও বের করে দিতে পারে। এছাড়া এটি খেলে শরীর ঠান্ডা হয়। ফলে গর্ভবতী নারীর সর্দি হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় তরমুজ খাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি।
খেজুর কেন নিষিদ্ধ ফলের তালিকায় রাখা হয়েছে?
খেজুর অত্যধিক পুষ্টিকর এক ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। জানেন কি, গর্ভাবস্থায় নিষিদ্ধ ফলের তালিকায় খেজুরও আছে। এর প্রধান কারণ হলো এই ফল শরীরকে উত্তপ্ত করে তোলে। জরায়ুর পেশীগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জরায়ুতে সংকোচনের কারণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত খেজুর কখনো খাবেন না।

হিমায়িত বা শুকনো বেরি জাতীয় ফল খাওয়া কি নিরাপদ?
গর্ভবতী নারীদের উচিত হিমায়িত বা দীর্ঘ সময় ধরে শুকনো কোনো ফল না খাওয়া। এর মধ্যে হিমায়িত বেরি অন্যতম। গর্ভাবস্থায় সব সময় তাজা ফল খাওয়া উচিত। হিমায়িত খাবারে ফরমালিন বা প্রিজারভেটিভ থাকতে পারে। এ কারণে এমন খাবার না খাওয়াই ভালো। এটি আপনার ও সন্তান উভয়ের জন্যই হতে পারে বিষাক্ত।
গর্ভাবস্থায় টিনজাত বা ক্যানড খাবার (যেমন টমেটো) কেন এড়িয়ে চলবেন?
বিভিন্ন সুপারশপে ক্যানড টমেটো পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় সব ধরনের টিনজাত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। এতে থাকতে পারে ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ। যা দীর্ঘদিন খাবার ভালো রাখতে ব্যবহৃত হয়।
গর্ভাবস্থায় কোন কোন ফল নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় উপকারী ফলের মধ্যে আছে আপেল, ডালিম, নাশপাতি, আম, কমলালেবু, অ্যাভোকাডো ও পেয়ারা। তবে আপনার যদি কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে আগে পরামর্শ নিয়ে তবেই খান। প্রতিদিন একজন গর্ভবতী নারী ২-৪টি তাজা ফল খেতে পারেন।
শেষ কথা
গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের খাদ্যাভ্যাস সরাসরি অনাগত সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। আনারস, কাঁচা পেঁপে বা অতিরিক্ত তেঁতুল যেমন গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ফল বা প্রিজারভেটিভ দেওয়া টিনজাত খাবারও মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। প্রতিটি মানুষের শারীরিক গঠন ও সহ্যক্ষমতা ভিন্ন, তাই যেকোনো ফল বা খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, সঠিক পুষ্টি এবং সতর্কতা এই দুইয়ের সমন্বয়েই নিশ্চিত হতে পারে একটি নিরাপদ মাতৃত্ব ও সুস্থ শিশুর জন্ম।
সূত্র: প্যারেন্টিং.ফার্টক্রাই
জেএমএস/জেআইএম