খাবারের অভ্যাস বদলে যেভাবে সুস্থ থাকছেন জেনেলিয়া
ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া
শরীর ও মন দুটোর কথাই ভেবেছেন। তাই ধীরে ধীরে মাছ-মাংস, ডিম এমনকি দুগ্ধজাত খাবারও বাদ দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজা। এখন তিনি পুরোপুরি ভিগান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই জীবনধারা বদলের কারণ ও অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলেছেন অভিনেত্রী।
বর্তমানে ভিগান খাদ্যাভ্যাস বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখেই অনেক তারকা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। জেনেলিয়ার ক্ষেত্রেও শুরুটা হয়েছিল স্বাস্থ্যগত চিন্তা থেকেই। তিনি জানান, ২০১৭ সালে প্রথমে আমিষ খাবার ছাড়েন। তখন পুরোপুরি ভিগান না হলেও নিরামিষাশী হয়ে যান। পনির, দুধ বা মাঝে মধ্যে ডিম খেতেন। পরে ধীরে ধীরে সেগুলিও বাদ দেন।

এক সাক্ষাৎকারে জেনেলিয়া বলেন, তিনি জন্মেছিলেন আমিষভোজী পরিবারে। তাই শুরুতে নিরামিষ খাবার মানেই ছিল হাতে গোনা কয়েকটি পদ। কিন্তু নিরামিষাশী হওয়ার পর বুঝেছেন এই খাবারের জগৎ অনেক বড়। নিজেকে পশুপ্রেমী বলেও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তবে মা হওয়ার পর প্রাণী হত্যা করে খাবার গ্রহণের বিষয়টি তার মনে গভীর অস্বস্তি তৈরি করে। সেখান থেকেই ভিগান হওয়ার ভাবনা আরও শক্ত হয়।
ভিগান খাদ্যাভ্যাসে যাওয়ার পর শরীরের পরিবর্তন স্পষ্টভাবে টের পাচ্ছেন জেনেলিয়া। তার ভাষায়, খাবার খাওয়ার পর আর ভারী লাগে না, হজমের সমস্যাও কমেছে। সার্বিকভাবে শরীর অনেক হালকা ও চনমনে থাকে। কোভিড মহামারির সময় থেকেই তিনি ও তার স্বামী রীতেশ দেশমুখ পুরোপুরি প্রাণিজ খাবার ত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন:
- শীতে ফিট থাকতে বাইরে নয়, ভরসা রাখুন ঘরোয়া শরীরচর্চায়
- শীতে শরীর গরম রাখে যেসব খাবার
- শীতের সকালে বাইরে বের হওয়ার আগে যা জানা জরুরি
- শীতের আরাম মোজা, সম্পর্কে কি প্রভাব ফেলে
জেনেলিয়া স্বীকার করেছেন, ভিগান হওয়ার প্রথম বছরে সব নিয়ম ঠিকঠাক মানা সম্ভব হয়নি। এখনও তিনি নিজেকে নিখুঁত মনে করেন না। তবে প্রতিদিনই শিখছেন এবং আরও সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য ছাড়াও পরিবেশ ও প্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি তার কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ভিগান বা নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি হয় কি না? এ প্রশ্ন উঠেই আসে। এ বিষয়ে মুম্বাইয়ের পুষ্টিবিদ কিনিটা প্যাটেল বলেন, খাদ্যাভ্যাস যাই হোক না কেন, সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে ঘাটতি হতে পারে। তার মতে, ভিটামিন বি-১২ এর অভাব এখন মাংসাশীদের মধ্যেও দেখা যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রিপোর্ট বিশ্লেষণ এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমেও ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জেনেলিয়ার ভিগান যাত্রা কেবল ডায়েট বদলের গল্প নয়; এটি সচেতন জীবনযাপনের এক বাস্তব অভিজ্ঞতা যেখানে শরীর, মন ও পরিবেশ সব কিছুর কথাই সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার
জেএস/