ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

মাজার পর থালা-বাসন পরিষ্কার হচ্ছে নাকি আরও ময়লা হচ্ছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

বাসন মাজতে আমরা প্রতিদিন যে মাজুনি বা স্ক্রাব ব্যবহার করি, সেটাই যদি হয়ে ওঠে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি — বিষয়টা একটু ভাবার মতোই।

 

বেশির ভাগ বাসায় একটি মাজুনি সপ্তাহের পর সপ্তাহ, কখনো মাসের পর মাস ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে পরিষ্কার দেখালেও ভেতরে ভেতরে সেটি কী জমিয়ে রাখছে, তা অনেকেই জানেন না।

 

১. ব্যাকটেরিয়ার কারখানা

রান্নাঘরের মাজুনি সব সময় ভেজা থাকে। এই ভেজা পরিবেশেই দ্রুত বংশবিস্তার করে ব্যাকটেরিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পুরোনো মাজুনিতে ই-কোলাই, সালমোনেলা বা স্ট্যাফাইলোককাসের মতো ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। এসব জীবাণু বাসন পরিষ্কারের সময় আবার থালা-বাসনে লেগে যায় এবং সেখান থেকে খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢোকার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলাফল হতে পারে ডায়রিয়া, বমি, পেটের সংক্রমণ বা ফুড পয়জনিং।

 

 

২. ত্বকের শত্রু

আরেকটি বড় ঝুঁকি ত্বকের জন্য। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা মাজুনিতে জমে থাকা জীবাণু ও খাবারের অবশিষ্টাংশ হাতের ত্বকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অনেকের হাতের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, ফাটা, লালচে দাগ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার পেছনে এই নোংরা মাজুনিই দায়ী। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

 

৩. বাসনের ক্ষতি

শুধু জীবাণুই নয়, পুরোনো মাজুনির খসখসে অংশ নষ্ট হয়ে গেলে বাসনের ওপর সূক্ষ্ম আঁচড় পড়ে। এই আঁচড়ে পরে ময়লা আরও সহজে জমে, যা পরিষ্কার করাও কঠিন হয়। অর্থাৎ একই মাজুনি ব্যবহার করতে করতে আপনি উল্টো রান্নাঘরকে আরও অস্বাস্থ্যকর করে তুলছেন।

 

৪. দুর্গন্ধ নষ্ট করে রান্নাঘরের ফ্রেশনেস

আরেকটি বিষয় প্রায় উপেক্ষিত — দুর্গন্ধ। পুরোনো মাজুনিতে জমে থাকা খাবারের কণা পচে গিয়ে বাজে গন্ধ তৈরি করে। সেই গন্ধ বাসন, এমনকি রান্নাঘর জুড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে রান্নার পরিবেশ যেমন অস্বস্তিকর হয়, তেমনি মানসিক বিরক্তিও বাড়ে।

 

তাই একটি মাজুনি সর্বোচ্চ এক থেকে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করাই নিরাপদ। এবং সেটি প্রতিদিন ব্যবহারের পর ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে শুকনো জায়গায় রাখা জরুরি। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত একদিন গরম পানি বা ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে মাজুনি ভিজিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। আর দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত নরম হয়ে যাওয়া বা রং বদলে গেলে দেরি না করে নতুন মাজুনি ব্যবহার করুন।

 

সূত্র: আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি, মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, মায়ো ক্লিনিক এবং ওয়েবএমডি

 

এএমপি

আরও পড়ুন