শীতে রুম হিটার ছাড়াই ঘর উষ্ণ রাখুন
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
শীত এলেই অনেকের প্রথম ভরসা রুম হিটার। এতে দ্রুত উষ্ণতা পাওয়া গেলেও ভুল ব্যবহারে আগুন লাগা বা শ্বাসকষ্টের মতো ঝুঁকি থাকে। আবার অনেকের পক্ষেই এই যন্ত্র কেনা বা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তবে সুখবর হলো রুম হিটার ছাড়াও কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে ঘরের ঠান্ডা অনেকটাই কমানো যায়। ঘর একেবারে হিটারের মতো গরম না হলেও, একটু সচেতন হলেই শীতের সময় ঘরের পরিবেশ হতে পারে তুলনামূলক উষ্ণ ও আরামদায়ক।
জানালায় লাগান ভারী পর্দা
শীতকালে জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢোকে সবচেয়ে বেশি। তাই পাতলা পর্দার বদলে ভারী কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করা ভালো। বিকেল গড়াতেই সূর্যের তাপ কমে আসে, তখনই পর্দা টেনে দিন। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে পর্দা সরিয়ে দিন। এতে সূর্যের প্রাকৃতিক উষ্ণতা ঘরে ঢুকবে এবং ঘরের ভেতর কিছুটা গরম ভাব বজায় থাকবে।
জানালা, দরজা ও দেওয়ালের ফাঁকফোকর বন্ধ করুন
অনেক সময় জানালা বা দরজা বন্ধ থাকার পরও ফ্রেমের পাশে সূক্ষ্ম ফাঁক থেকে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে পড়ে। এই জায়গাগুলো রাবার স্ট্রিপ বা সিল্যান্ট দিয়ে সহজেই বন্ধ করা যায়। পুরোনো ঘরে দেয়ালের কোথাও ছোট ছিদ্র বা ফাটল থাকলে সেগুলোও প্লাস্টার দিয়ে ভরাট করে নিন। এতে ঘরের তাপ বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমবে।
আরও পড়ুন:
- ফ্রিজে দুর্গন্ধ? জেনে নিন মুক্তির কৌশল
- শীতকালে রান্নাঘরে তেলাপোকার উৎপাত? জানুন সমাধান
- হঠাৎ অতিথি? অগোছালো ঘর গুছিয়ে ফেলুন চোখের পলকে
আলোও দেয় উষ্ণতার অনুভূতি
ঘর অন্ধকার বা ম্লান হলে ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হয়। তাই শীতকালে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন। পড়াশোনা বা কাজের সময় মাথার ওপরে অতিরিক্ত একটি বাতির ব্যবস্থা করলে শুধু আলোই নয়, সামান্য উষ্ণতাও পাওয়া যায়।
আসবাবের যত্নে বাড়তি আরাম
বিছানা বা সোফায় অতিরিক্ত চাদর, কভার কিংবা থ্রো ব্যবহার করুন। তবে মনে রাখবেন, সুতি কাপড় দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। শীতের জন্য পশমি, উল বা ফ্লিস কাপড় অনেক বেশি আরামদায়ক। এ ছাড়া আসবাবের অবস্থানেও পরিবর্তন আনতে পারেন। জানালা বা দরজার কাছাকাছি বসার জায়গা না রেখে ঘরের ভেতরের দিকে রাখলে ঠান্ডা কম লাগবে।
আরও কিছু কার্যকর কৌশল
- রান্না করার সময় রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে সেখানকার উষ্ণতা আশপাশের ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে।
- মেঝেতে কারপেট, শতরঞ্জি বা মোটা পাপোশ ব্যবহার করুন। বিশেষ করে বিছানার পাশে রাখলে সকালে ঠান্ডা মেঝেতে পা পড়ার অস্বস্তি কমবে।
- ঘরের সাজে উষ্ণ রঙ ব্যবহার করুন। হলুদ, কমলা, লাল বা এ ধরনের উজ্জ্বল রঙ চোখে ও মনে উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করে। দেয়াল, পর্দা বা কুশনে এসব রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে।
- যে ঘরগুলো নিয়মিত ব্যবহার হয় না, সেগুলোর দরজা বন্ধ রাখুন। এতে ব্যবহৃত ঘরগুলো তুলনামূলক উষ্ণ থাকবে।
ঘর যতই আরামদায়ক হোক, শীতের সময় শরীরের তাপ ধরে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শীতের উপযোগী পোশাক পরুন, প্রয়োজনে একাধিক স্তর ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরেও মোজা ও জুতা ব্যবহার করতে পারেন। সুযোগ পেলেই হাতমোজা পরুন। পাশাপাশি গরম স্যুপ বা উষ্ণ পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে গরম রাখে, যা শীতের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
জেএস/