ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

প্রয়োজন থেকে নান্দনিকতা, যা পাওয়া যাচ্ছে মেলায়

জান্নাত শ্রাবণী | প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

পূর্বাচলে বসেছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দেশি-বিদেশি ৩৫০টির মতো স্টলে জমজমাট এই আয়োজন শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং একটি বহুবর্ণের অভিজ্ঞতা। যেখানে প্রয়োজনের পণ্য থেকে শুরু করে নান্দনিক সাজসজ্জা, হাতের শিল্পকলা, শিশুদের আনন্দ এবং মানুষের গল্প সবই একসাথে মিলেছে।

গ্যাসচুলা বা ইন্ডাকশন, কার্পেট বা আলোকবাতি, শাড়ি বা সাইকেল প্রতিটি স্টল যেন জীবনের নানা রঙের গল্প বলে। এই মেলা শুধু কেনার জায়গা নয়, বরং অনুভব করার, খোঁজার এবং জীবনের ছোট-বড় আনন্দগুলোকে এক ছাদের নিচে খুঁজে পাওয়ার খামখেয়ালী উৎসব।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

হল ‘এ’ ও ‘বি’র ভেতরে যেমন পণ্যসম্ভার, তেমনি প্রদর্শনী কেন্দ্রের বাইরেও সারি সারি স্টল দর্শনার্থীদের ডাকছে। রান্নাঘরের প্রয়োজন থেকেই অনেকের প্রথম গন্তব্য গ্যাসবিহীন রান্নার সরঞ্জাম। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্টলে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা মিলছে ২ হাজার ৮৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজারের মধ্যে। গ্যাসচুলার সংগ্রহও কম নয়, এক মুখের চুলা, দুই মুখের চুলা আর তিন মুখের চুলা। দাম শুরু ২ হাজার থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

ভিনদেশি স্টলগুলোর মধ্যে তুর্কিস্তানের দোকান মানেই আলোর জাদু। বাহারি নকশার আলোকবাতির দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। চোখে পড়বে রঙিন ক্রিস্টাল প্লেট ৬টি ছোট ও ১টি বড় মিলিয়ে ৭ পিসের সেট ৬ হাজার টাকায়। কাচ ও কাঠের ফ্রেমের ট্রে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে। সিরামিকের বাটি, ফুলদানি, শোপিস বা দেয়ালঘড়ি সবই হাতে আঁকা নকশায়, দাম ৩ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

ইস্তাম্বুল ও কাশ্মীরি কার্পেটের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সিল্ক, উল ও সিনথেটিক কার্পেট। প্রতি বর্গফুটের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। ছোট আকারের ২×৩ ফিট কার্পেট ৬ হাজার টাকায় মিললেও, ১০×১৩ ফিটের বড় কার্পেটের দাম ছুঁতে পারে ৫ লাখ টাকা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

ভারতীয় ও পাকিস্তানি স্টলে নাগরা, চটি, স্যান্ডেল সব মিলিয়ে জুতার দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। শিশুদের নাগরা মিলবে ৫০০ টাকায়। শীতপোশাকের দোকানগুলোয় কাশ্মীরি শাল ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। কম্ফোর্টার ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, বেডশিট ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

পুরুষদের জন্য ব্লেজার ও কোটির দোকানগুলো বেশ জমজমাট। ব্লেজার শুরু ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে, কোটি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে। লুঙ্গি মিলবে ৩৫০ টাকা থেকে বিভিন্ন দামে।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

নারীদের পোশাকে থ্রি–পিস ৫৫০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা। প্রাকৃতিক উপাদানে রঙ করা থ্রি–পিস পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ৭৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা, জামদানি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। পাকিস্তানি খাদি শাড়ি ১ হাজার ৭৫০ টাকায়।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

শিশুপার্কের পাশেই দুরন্ত সাইকেলের স্টল। সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ছাড়ে শিশুদের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকায়। বড়দের সাইকেল ১৪ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা। বিশেষ আকর্ষণ ইউরোপিয়ান প্যাডেল অ্যাসিস্ট ইলেকট্রিক সাইকেল মেলায় দাম ৫৫ হাজার টাকা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

আরএফএলের স্টলে শিশুদের খেলনার সমাহার। স্কুটি ১ হাজার ৬৯০ টাকা, হর্স রাইডার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ওয়াকার ২ হাজার ৪৭৫ টাকা। বাইক ৮ থেকে ১২ হাজার, গাড়ি ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। দোলনা, স্লাইডার ও বাস্কেটবল সেট মিলবে ১২ হাজার ৩৫০ টাকায়।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

শুধু বাহারি পণ্যই নয়, মেলায় আছে বাহারি সব খাবার। বিশেষ করে নজর কেড়েছে মেলায় থাকা আচারের স্টলগুলো। প্রতি স্টলে সাজিয়ে রাখা আছে প্রায় ২৫-৩০ ধরনের আচার। এসব আচার কেনা যাচ্ছে নিজের চাহিদা অনুযায়ী। যার যতটুকু ইচ্ছে।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

প্রদর্শনী কেন্দ্রের বাইরে ‘বন্দীদের উৎপাদিত পণ্য কিনুন, বন্দী পুনর্বাসনে সহায়তা করুন’ এই বার্তা নিয়ে বসেছে বাংলাদেশ জেল কারা পণ্যের দোকান। ২৮টি জেলখানার বন্দীদের তৈরি ৪০০–এর বেশি পণ্য এখানে পাওয়া যাচ্ছে। বাঁশ–বেতের সামগ্রী থেকে শুরু করে কাঠের আসবাব, পোশাক, জুতা, নকশিকাঁথা সবই শ্রম আর প্রত্যাশার গল্প বলে।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টলে বিক্রি হওয়া পণ্যের অর্থ যাবে জুলাই পুনর্বাসন সহায়তা কেন্দ্রে। কাঠের ক্রেস্ট, ক্যালেন্ডার, টুপি, পাটের ব্যাগ, বই সবকিছুতেই স্মৃতির ভার।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

শিশুদের জন্য আছে নাগরদোলা, টয় ট্রেনসহ নানা রাইড; টিকিট ১০০ টাকা থেকে। ঘোরাঘুরির শেষে শিশুপার্কের শেষ প্রান্তে তুরস্কের ছয় শেফের হাতে তৈরি ‘টার্কিশ রেস্তোরাঁয়’ মিলবে কাবাবের স্বাদ; দাম ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা, শুক্র ও শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা। যাতায়াতের সুবিধায় রয়েছে বিআরটিসির দোতলা শাটল বাস।

এবারের বাণিজ্য মেলায় যা পাওয়া যাচ্ছে

এই মেলা তাই শুধু কেনাকাটার নয়; এ এক অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রয়োজন মেশে নান্দনিকতায়, আর পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে মানুষের গল্প।

জেএস/

আরও পড়ুন