সাদামাটা পাঞ্জাবিতে আত্মবিশ্বাসী রাজনীতি
মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
দেশের মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। আর মাত্র দুদিন পরই আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেজন্যই প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রার্থীরা। আর এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসন হচ্ছে ঢাকা-৮। সারাদেশের মানুষের বিশেষ নজর এই আসনের দিকে। কারণ এই আসনের জন্য লড়বেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক মির্জা আব্বাস ও তরুণ রাজনীতিবিদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সঙ্গে আছেন আলোচিত আরেক প্রার্থী মেঘনা আলম।
সব মিলিয়ে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী মাঠে প্রচারণার দৃশ্যটা একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায় এখানে রাজনীতি শুধু বক্তৃতা বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে লাইফস্টাইল, উপস্থিতি আর সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনাও। এই আলোচনার কেন্দ্রে যেমন আছেন তরুণ রাজনীতিবিদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তেমনি আছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসও। মজার ব্যাপার হলো, দুজনকেই প্রচারণায় প্রায়শই দেখা যায় পাঞ্জাবিতে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পাঞ্জাবি নতুন কিছু নয়। মির্জা আব্বাস বহুদিন ধরেই পাঞ্জাবি পরে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সাদামাটা অথচ পরিপাটি পাঞ্জাবি তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে তার দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস আর সাবলীল উপস্থিতিকে আরও স্বাভাবিক করে তোলে এই পোশাক। অনেকের কাছে তিনি সেই পরিচিত, চেনা রাজনীতিক যার কাছে গিয়ে কথা বলা যায়।

অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাঞ্জাবি যেন নতুন প্রজন্মের ভাষা। বয়সে তরুণ, ভাবনায় সমসাময়িক; তার পাঞ্জাবি স্টাইলেও আছে সেই আধুনিক সরলতা। অতিরিক্ত জাঁকজমক নেই, আছে স্বাচ্ছন্দ্য। এখানেই দুই প্রজন্মের দুই রাজনীতিবিদের মধ্যে এক ধরনের মিল তৈরি হয় পাঞ্জাবি দুজনের কাছেই ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং মানুষের কাছাকাছি থাকার একটি মাধ্যম।
লাইফস্টাইলের দৃষ্টিতে দেখলে, পাঞ্জাবি এখানে এক ধরনের নীরব বার্তা বহন করছে। রাজনীতির কঠোরতা, বক্তব্যের উত্তাপ বা নির্বাচনী হিসাব সবকিছুর বাইরে গিয়ে এই পোশাক জানিয়ে দেয়, রাজনীতিবিদরাও সাধারণ জীবনের অংশ। এই জায়গাটিই সাধারণ মানুষের কাছে আনন্দের, কারণ রাজনীতিকে তারা দেখতে পায় একটু হালকা, একটু মানবিক রূপে।

এই মানবিক রূপের বড় অংশ জুড়ে আছে সোশ্যাল মিডিয়া। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কিছু বক্তব্য, ভঙ্গি কিংবা প্রচারণার মুহূর্ত খুব দ্রুতই ভাইরাল হয়। কখনো তার আত্মবিশ্বাসী কথা, কখনো সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার ভঙ্গি সব মিলিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এই ভাইরাল হওয়াটা শুধু বিতর্কের জন্য নয়, বরং তরুণদের কাছে তার স্পষ্টতা ও উপস্থিতির কারণেই।

অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তার পুরোনো স্মৃতি, অভিজ্ঞতার গল্প কিংবা জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের অংশ। অনেকেই সেখানে তুলনা করেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের দৃঢ়তা আর একজন তরুণ নেতার উদ্দীপনা। এই তুলনা থেকেই তৈরি হয় আলোচনা, আর আলোচনা থেকেই জন্ম নেয় আগ্রহ।
জনসাধারণের জন্য এই দৃশ্যপট বেশ উপভোগ্য। একদিকে অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে তারুণ্য। দুজনেই পাঞ্জাবি পরে মাঠে, দুজনেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কথা বলছেন। সোশ্যাল মিডিয়া সেই মুহূর্তগুলো ধরে রাখছে, কখনো ভিডিও ক্লিপে, কখনো ছবিতে, কখনো মজার ক্যাপশনে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মাঝেও এখানে এক ধরনের হালকা বিনোদনের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এই পুরো বিষয়টি আসলে আমাদের সময়ের রাজনীতির একটি নতুন দিক দেখায়। রাজনীতি এখন শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ফেসবুকের স্ক্রল, ভিডিওর রিল আর ছবির ক্যাপশনেও বাস করে। পাঞ্জাবি সেখানে ভিজ্যুয়াল আইডেন্টিটি হয়ে ওঠে আর কথাবার্তা হয়ে ওঠে ভাইরাল কনটেন্ট।
সব মিলিয়ে, ঢাকা-৮-এর এই নির্বাচনী আবহে পাঞ্জাবি শুধু পোশাক নয় এটি যোগাযোগের ভাষা। মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে এটি অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক প্রকাশ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে এটি আত্মবিশ্বাসী তারুণ্যের প্রতীক। আর সোশ্যাল মিডিয়া সেই দুই ধারাকেই মিলিয়ে দিচ্ছে এক জায়গায় যেখানে পাঠক তথ্যও পাচ্ছে, আবার হালকা আনন্দও খুঁজে নিচ্ছে।
জেএস/