রোজায় কিশোরী পিসিওএস রোগীদের যেসব পরামর্শ দেন চিকিৎসক
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
রোজায় কিশোরী পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) রোগীরা প্রায়ই দোটানায় পড়েন। রোজা রাখা নিরাপদ কি, খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে, কীভাবে দেহ সুস্থ রাখা যাবে? -এসব প্রশ্নই ঘুরপাক খায় পিসিওএস রোগীদের মাথায়। এই সব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন।
তিনি জানান, ‘পিসিওএস কিশোরীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রমজানে খাবারের ধরন ও সময়ের ওপর নজর দিলে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা সম্ভব।’
ছবি: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন
পিসিওএস কিশোরীদের রোজা রাখা নিরাপদ কি?
ডা. রুখসানা পারভীন বলেছেন, ‘সব কিশোরী একইভাবে রোজা রাখতে পারবে না। যারা সুস্থ, নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে পারেন। তবে যাদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বা তীব্র হরমোনজনিত সমস্যা আছে, তাদের রোজা এড়িয়ে চলা ভালো।’
রোজার সময়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মূল বিষয়
সেহরি ও ইফতারে সঠিক খাবার: সেহরিতে খেতে পারেন জটিল শর্করা (ওটস, ডালিয়া), প্রোটিন (ডিম, দুধ, দই), স্বাস্থ্যকর চর্বি (বাদাম, তিল)। অন্যদিকে ইফতার রাখা যাবে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার। যেমন-ফল, স্যুপ, হালকা ভাত বা রুটি। ডা. রুখসানা পারভীন বলেন, সঠিকভাবে সেহরি ও ইফতার নেওয়া পিসিওএস কিশোরীর ব্লাড সুগার এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ: রোজার আগে ও পরে মিষ্টি খাবার বেশি না খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা, ছোট ছোট খাবারের মাধ্যমে শক্তি বজায় রাখা।
পানি ও তরল পদার্থ: রোজা রাখার সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি নেওয়া উচিত।
ওজন ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা: পিসিওএস কিশোরীদের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ডা. রুখসানা পারভীন বলেছেন, ‘রোজার সময় অতিরিক্ত খাওয়া বা একেবারে না খাওয়া উভয়ই ক্ষতিকর। ব্যালান্সড ডায়েট এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম (যেমন হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম) স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।’
কখন রোজা ভাঙা উচিত?
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
- অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শারীরিক ক্লান্তি
- ব্লাড সুগার খুব বেশি কমে যাওয়া
- স্থায়ী হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দেওয়া
ডা. রুখসানা পারভীন মনে করিয়ে দেন, ইসলামে অসুস্থ বা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির জন্য রোজা পরে আদায় করার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিলে ইসলামের বিধানও মানা হবে না।
আরও পড়ুন:
- রোজায় জরায়ু ও স্তন ক্যানসার রোগীদের করণীয়
- স্তন্যদানকারী মায়ের রোজা রাখা নিয়ে যা বলছেন চিকিৎসক
- রোজায় নারীর শরীর ও মাতৃত্ব, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
মানসিক ও সামাজিক দিক
রমজানে অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোজা রাখতে না পারলে অনেক কিশোরী অপরাধবোধ অনুভব করেন। তাই পরিবারের সমর্থন ও স্বাস্থ্য সচেতন মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নই প্রথম অগ্রাধিকার। পিসিওএস থাকা কিশোরীদের রোজা রাখা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত। রোজার সময়ে খাদ্য, পানি, হালকা ব্যায়াম এবং পর্যবেক্ষণ বজায় রেখে স্বাস্থ্য ঠিক রাখা সম্ভব।
ডা. রুখসানা পারভীন জোর দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্যই প্রথম, রোজা পরে পূর্ণ করা যায়। সঠিক পুষ্টি এবং নিয়মিত চিকিৎসা মানলে কিশোরী পিসিওএস রোগীর রমজান নিরাপদ এবং সুস্থভাবে কাটানো সম্ভব।’
জেএস/