ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

স্তন্যদানকারী মায়ের রোজা রাখা নিয়ে যা বলছেন চিকিৎসক

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬

রমজানে অনেক স্তন্যদানকারী মা-ই দোটানায় পড়েন। রোজা রাখলে কি শিশুর কোনো ক্ষতি হবে? দুধ কমে যাবে না তো? নিজের শরীরের ওপর প্রভাব পড়বে কি? এসব প্রশ্ন প্রায় সব মায়েদের মনেই থাকে। এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন।

তার মতে, ‘সব স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়। মায়ের শারীরিক অবস্থা, শিশুর বয়স, পুষ্টির চাহিদা এবং দুধের পরিমাণ সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

রোজা রাখলে কি দুধ কমে যায়?

ডা. রুখসানা পারভীনের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ ও পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণকারী মায়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত রোজা রাখলে হঠাৎ করে দুধ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে পর্যাপ্ত পানি না খেলে দুধের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে, মায়ের শরীরে দুর্বলতা এলে শিশুর চাহিদা অনুযায়ী দুধ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে প্রথম কয়েকদিন অস্বস্তি বা দুধের প্রবাহে সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীনছবি: কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন

তিনি বলেন, ‘ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে বেশিরভাগ সুস্থ মা নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন।’

কোন মায়েরা রোজা না রাখাই ভালো?

  • শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের কম হয় এবং সে পুরোপুরি মাতৃদুগ্ধনির্ভর হয়
  • মায়ের ওজন অত্যধিক কম বা রক্তস্বল্পতা থাকে
  • সিজারিয়ান অপারেশনের পর এখনও পুরোপুরি সুস্থ না হলে
  • দুধের পরিমাণ আগে থেকেই কম থাকলে
  • মা যদি মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ডিহাইড্রেশনে ভোগেন

ডা. রুখসানা পারভীন মনে করিয়ে দেন, ইসলামে অসুস্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির জন্য রোজা পরে আদায় করার সুযোগ রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে জোর করে রোজা রাখা উচিত নয়।

শিশুর ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

ডা. রুখসানা পারভীন জানান, রোজা রাখলে মায়ের দুধের গুণগত মান সাধারণত খুব একটা বদলায় না। তবে মায়ের শরীরে পানিশূন্যতা হলে দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে, যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

শিশুর মধ্যে যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে-

  • আগের তুলনায় কম প্রস্রাব
  • অতিরিক্ত কান্না বা অস্থিরতা
  • ওজন না বাড়া
  • স্তন্যপানের পরও ক্ষুধার্ত থাকা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:

রোজা রাখতে চাইলে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।
  • এ সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। সেহরিতে জটিল শর্করা, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেমন-ডাল, ডিম, দুধ, সবজি, ভাত বা রুটি।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। দিনেও বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
  • শিশু ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে কি না, তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • মা যদি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন বা শিশুর সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে রোজা ভেঙে নেওয়াই উত্তম।

ডা. রুখসানা পারভীন বলেন, ‘অনেক মা সামাজিক বা পারিবারিক চাপে রোজা রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু নিজের ও শিশুর স্বাস্থ্য সবার আগে।’ তিনি পরামর্শ দেন, পরিবারকেও সচেতন হতে হবে এবং মায়ের শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্তন্যদানকারী মায়ের রোজা রাখা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল সিদ্ধান্ত। সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই নিজের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত হলেই শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত হবে-এ কথাই জোর দিয়ে বলছেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন।

জেএস/

আরও পড়ুন