ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. সাহিত্য

জিল্লুর রহমান শুভ্রর গল্প: বেঙ্গা- পর্ব ০১

ফিচার ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

তার হাঁটুর নিচটা পাটকাঠির মতো সরু। বয়সের তুলনায় মাথাটা বেজায় বড়। গর্ভাবস্থায় তার পিঠদাঁড়া বিদ্রোহ ঘোষণা করে; ফলে তা সুস্থ-স্বাভাবিক ছেলের মতো নয়। নিচের অংশে মাংসের পাহাড়। ভঙ্গুর চলৎশক্তি। পথচারীদের করুণালাভের উদ্দেশে কিছু ভিক্ষুককে ফ্লাইওভারের ওপর হাত-পা ছড়িয়ে ব্যাঙের মতো পড়ে থাকতে দেখা যায়, প্রায় সেরকম সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার ঘরের মেঝেয় পড়ে থাকে সে। এ কারণেই আপামর জনতা তাকে বেঙ্গা নামে ডাকে। তার আরও কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য তাকে অনন্য করে তুলেছে। যেমন তার চোখের মণি মার্বেলের মতো এবং ঘোলাটে। তাছাড়া তার বিপজ্জনক ত্বক। শণপাটের বস্তার মতো খসখসে; যা শীতের দিনে ভয়াবহ রূপ নেয়। ফেটে চৌচির। ফাটাগুলো বনরুইয়ের আঁশের মতো চৌখুপি লাগে। তখন তাকে অনেকেই বনরুই বলে টিটকারি মারে।

তবে তার বুবু শুধু রেগে গেলেই তাকে বেঙ্গা নামে ডাকে। নচেৎ বাবার দেওয়া নামেই তাকে ডাকে। তার জন্মের পর তার বাবা আকিকা করে তার একমাত্র পুত্রধনের নাম রেখেছিল ইসলামের মহাবীর সালাউদ্দিনের নামে। শুধু নামটাই সার, বাস্তবে সালাউদ্দিনের কর্ম ও সাহস থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে; না পারে অশ্বপৃষ্ঠে চড়তে, না পারে তরবারি চালাতে। তবুও সালাউদ্দিন বলে কথা! তার বুবু কাজকামে ব্যস্ত থাকলে ঠিক সময় গোসল না করালে মাথা আঁচড়াতে বাধা দেয় সে; মাথায় চুলের জটা, তবুও। তখন হাঁটুর মাঝখানে তার মাথা গিলোটিনের মতো রেখে আঁচড়ে দিতে হয়। খাবার দিতে দেরি হলেও সর্বনাশ! তখনও গোঁ ধরে। ভাব নেয় তাকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন? বাবা-মা বিনা নোটিশে হঠাৎ পরকালের টিকিট কাটলে বুবুই হয়ে ওঠে তার একমাত্র অবলম্বন, অহংকার এবং আস্ফালন। তার ওপরেও অভিমানের কামান দাগাতে কিংবা ক্ষোভের অগ্নিবর্ষণ করতে দ্বিধা করে না সে। থিকথিকে কেঁচোর মতো এসব উপদ্রব, অন্তঃসারশূন্য আহ্লাদ তার বুবুর গা-সওয়া হয়ে গেছে। হাসিমুখে প্রায় বলে, আমি যেদিন শ্বশুরবাড়ি যাব, সেদিন বুঝবি। বুবুর এই কথাটা একেবারে সহ্য করতে পারে না সে। শুনলেই তার মনে হয়, তার চোখের সামনেই আকাশ ভেঙে পড়ছে কিংবা কল্পিত পর্বত। তখন গাল ফোলায়, দাঁতে দাঁত ঘঁষে, চোখের মণি লাটিমের মতো ঘোরায়, বুকের ছাতি শক্ত করে।

মফস্বল শহর থেকে অনতিদূরে দু’ভাই-বোনের অনাড়ম্বর সংসার। ছোট্ট একটা খুপড়ি ঘর। সামনে এক চিলতে এবড়োথেবড়ো উঠোন। কলাপাতার বেড়া দিয়ে ঘেরা। তিনদিক থেকে পাহাড়া দিচ্ছে বনবাদাড়। হতচ্ছাড়া শ্রী নিয়ে যে খুপড়ি ঘর মুমূর্ষু রোগীর মতো প্রতিনিয়ত ধুকছে, বর্ষা মুখরিত দিনে টাপুর টুপুর শব্দে তা-ই হয়ে ওঠে গান্ধর্ববিদ্যার নিকেতন, জোছনাপ্লাবিত রাতে মায়াপুরী, আর কোকিলডাকা দুপুরে নৈঃশব্দ্যের চিলেকোঠা। অন্তত বেঙ্গার কাছে। যখন ঝিরিঝিরি বাতাস বয়, ভাঙাখাটে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা অবস্থায় চোখ বুজলেই চলে যায় সে কোনো এক অচিনপুর; যেখানে তার হাড়হাড্ডিসার বাবাকে দেখে ধবধবে সাদা মেঘের ভেতর নামাজরত অবস্থায়; তার পিঠের ওপর একটা সাদা পায়রা বসতে দেখে, আবার উড়তেও। নামাজান্তে মাথার টুপি খুলে তার বাবা তাকে আশীর্বাদ করে, অনেক বড় হবি তুই।

দেখতে দেখতে তার বয়স বাইশের ওপরে। মাঝে মাঝে সে রিরংসার দাবানলে পোড়ে। স্মৃতিকাতর তন্ময়তার পালক খসে পড়লে তার প্রধূমিত দীর্ঘশ্বাস ঝরে, আবার কবে বড় হবো রে বাবা! শুয়েই তো জীবনটা কাটছে। আমি কি কোনোদিন দাঁড়াতে পারব? সখীরে কখনো বলতে পারবো, তোমাকে ভালোবাসি?

সখী ওদের প্রতিবেশীর মেয়ে। স্বামী পরিত্যক্তা। টানাপোড়েনের সংসারে জঞ্জাল হিসেবে বিবেচিত। ওর বুবু রোজগারের জন্য শহরে গেলে সামান্য অর্থকড়ির বিনিময়ে সখীই ওর দেখভাল করে। বয়সে ওর চাইতে কমপক্ষে দশ বছরের বড়। বেশ স্বাস্থ্যবতী। গায়ের রং বিদঘুটে কালো। দাঁতগুলো চকচক করে এবং অকারণেই বেরিয়ে আসতে চায়। রূপের ধুচুনি বলতে যা বোঝায় তাই সে। মদমত্ত মাদি হাতির মতো এক আছাড়েই বেঙ্গার নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলবে, এমন মরদামি তার। আফসোস, বেঙ্গা মনেপ্রাণে তাকেই ভালোবাসে। আর না বেসেই বা উপায় কী? সখী ছাড়া আর কোনো মহিলাকে স্বচক্ষে দেখেনি সে। সমগ্র জীবনে তার ইন্দ্রিয়ে মাত্র তিনজন নারীর উপস্থিতির প্রাবল্য; মা, বোন আর সখী।

সখী সাধারণত দুপুরে আসে। বেঙ্গার শরীর ধুয়েমুছে দেয়। কাপড় পাল্টে দেয়। ভাত খাওয়ায়, মুখ মুছে দেয়। মন ভালো থাকলে দু’চারটে কথা বলে, না থাকলে কালো মুখটা অঙ্গার করে রাখে। বেঙ্গা তখন তাকে খুব ভয় পায়। মুখ ফসকে কিছু বলতে সাহস না করলেও আজ তার মায়াবী ছোবলে ভয়ংকরভাবে কুপোকাত। সখীর সঙ্গে লেপ্টালেপ্টি করতে তার মনটা কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠেছিল। হাঁটু গেড়ে ভাত তুলে খাওয়াচ্ছিল তাকে; মুখে ভাত দিতে গেলে সখীর হাতটাই গিলে খেতে চাইছিল সে। কখনো কামড়ে দিচ্ছিল। দু’হাতের তালুতে ভর করে ভারী মাথাটা কষ্ট করে তুলে তার হাঁটুর ওপর রাখতে চাইছিল। এরকম বাঁদরামি আচরণে সখী বিব্রত বোধ করলেও মুখ ফুটে কিছু বলছিল না। তার ভেতরেও কী চলছিল ফ্রয়েডীয় আন্দোলন? হয়তো বা। নইলে এতটা মৌন কেন? প্রশ্রয়ের ফল্গুধারাও বইছিল তার মনে। মৌনতা ভাঙে তখন, যখন বেঙ্গা একটা হাত তার বুকের দিকে নিতে চায়। হঠাৎ ১৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে দাঁড়ায়। ভাতারছাড়ি হিসেবে তার কপালে সিলমোহর থাকলেও চরিত্রহীনা নয় সে। ফলে তার ব্রহ্মতালু ধাঁ করে জ্বলে ওঠে। মুখ মোছার কাপড়টা বেঙ্গার দিকে ছুঁড়ে মারে। পানির গ্লাস তার সামনে রেখে উঠে দাঁড়ায়। তারপর দরজা হাট করে খোলা রেখে চলে যায় সে।

যেতে যেতে ভাবে, তার বুবুকে বলে দেবে সে; তার পক্ষে কাজ করা আর সম্ভব নয়।

০২.
তার বুবু শহরে আড়তদারের দোকানে শ্রমিকের কাজ করে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করতে হয় সেখানে; যাকে বলে হাড়খাটুনি। কোমরে গোঁজা ঘামভেজা ছেঁড়া শাড়ির আঁচল খুলে দিয়ে যখন বাতাসে মাথার চুল ঝাঁকাচ্ছিল, ততক্ষণে রোদপোকারা দুপুরের মেরুদণ্ড খেয়ে ফেলেছে। বিষণ্নতার ভস্ম ছড়িয়ে আকাশ তার হাত-পা গুটিয়ে নিয়েছে। এমন অনাসক্ত পরিবেশে হঠাৎ বেঙ্গার কথা মনে পড়ায় তার অস্থিরতা মোচড়ামুচড়ি করল। সখী তাকে ঠিকমতো খাইয়েছে কি না, ভাবিত হলো সে; এবং গৃহে ফেরার তীব্র তাগিদ অনুভব করল। কিন্তু সে আসতে চাইলেই তো আসতে পারে না। ঘড়ির কাঁটা তার মতো শ্রমিককে শাসন করে। তাই সে সময় জানতে এগিয়ে গেল আরেক শ্রমিকের দিকে। তার হাতে ছিল হকারের কাছ থেকে কেনা সস্তা দামের ইলেট্রনিক ঘড়ি। শ্রমিকটি ছিল পুরুষ। বয়স তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে অনেকদূর; তবুও সে অকৃতদারই রয়ে গেছে। তবে তার মনের সিন্দুকে গচ্ছিত রেখেছে মেয়েটিকে। তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে দেবে করেও দেওয়া হয়নি তার। আজ যখন মেয়েটি তার কাছে সময় জানতে চাইল, তড়িৎ ভেবে নিলো, মোক্ষম সময় এটাই।
‘খুব কি তাড়া আছে?’ শ্রমিকটি জিজ্ঞেস করল। পরক্ষণে বলল, ‘না থাকলে আসো চা খাই। তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।’
‘না, খামু না। কী জরুরি কথা, তাই কও।’ বলল সে, ‘বাড়িতে আর্জেন্ট কাজ আছে।’
শ্রমিকটি ভাবল, তার মন খারাপ। তাকে খুশি করার জন্যে বেহুদাই বলল, ‘জেবু, তোমাকে দেখতে পুরানা দিনের সাদাকালো সিনেমার নায়িকাদের মতো লাগে।’
জেবুর মন গলল না। তার ভেতরে দুর্বিষহ বেদনার বিনির্মাণ চলছিল। ফলে তেতে উঠল সে, ‘রঙের আলাপ শোনার সময় নাই! কী কইতে চাও, তাই কও!’
শ্রমিকটি চট করে জেবুর একহাত তার নিজের হাতে নিলো। এটা তার কাছে ধৃষ্টতা মনে হলো। রাগত স্বরে গম্ভীর গলায় বলল, ‘হাত ছাড়ো! মাইয়া মানুষ দেখলেই হাত ধরতে মন চায়? ভালো হয়ে যাও!’ ভাবতেও পারেনি এভাবে অপমানিত হবে সে। ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ছেড়ে দিলো। যেভাবে সে তার মনের ভাব প্রকাশ করতে চাইছিল, ঠিক সেভাবে প্রকাশ করতে না পেরে ভয়ানক অস্বস্তিতে পড়ল। অস্বস্তি কাটাতে বিড়ি ধরাবে, ঠিক করল; কিন্তু বিড়ি কোথায় রেখেছে, মনে পড়ছিল না তার। হাতড়াচ্ছিল, জেবু তাকে মনে করিয়ে দিলে তার অস্বস্তির কিছুটা লাঘব হলো। বিড়িটা ছিল তার কানে।
বিড়িতে সুখটান দিয়ে কালবিলম্ব না করে ভেজা বেড়ালের মতো অপসৃত হলো সে।

জেবু রাগবাগ দেখালেও এটা তার মনের কথা নয়। পৌষে মিষ্টি রোদ কার না ভালো রাগে! কার না ভালো লাগে মন খারাপের দিনে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি! কার না ভালো লাগে শিশিরভেজা হলুদ শর্ষেক্ষেত! কার না ভালো লাগে প্রেমের প্রস্তাব! দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত জীবন তার; তবু তারও ভালো লাগে। সে-ও চায় কেউ একজন তাকে নিভৃতে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলুক, তোমাকে ভালোবাসি। এমন সাহসী মানুষের জন্য মনটা তার খচখচ করছিল, তাই যখন সে চলে যাচ্ছিল, তার অপসৃয়মান পথের দিকে তাকিয়ে ছিল সে।

সন্ধ্যা নামার বাকি। দিনকাল যা পড়েছে, বিকেলের প্রক্ষালিত আলোয় ফিরতে হয় তাকে। মালিককে বলতে গেল। মালিক তার গদিতে বসা। তার কথা যেন শুনছিলই না। ক্যাশিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে টাকা গুনতে ব্যস্ত। মালিক হলে শ্রমিকদের সামনে গোমড়া মুখে থাকতে হয়, এ রকম ভাবের পেশী প্রদর্শন করে একবার তাকাল শুধু; তারপর বলল, ‘টেকা কী এমনি এমনি আসে! ঠিক আছে, যাও!’ ফিরছিল সে, পুকুর পাড়ে এসে হঠাৎ তার মনে হলো কেউ তাকে অনুসরণ করছে। পুকুর পাড়ে অনেকেই বসে থাকে। কেউ মাছ ধরে, কেউ বাতাস খায়, কেউ সময় কাটায়। তাদের মধ্যে একজন—সেই শ্রমিক; গামছা দিয়ে মুখ ঢাকা তার। যেন লাফিয়ে সামনে এলো তার। মুখের গামছা সরিয়ে নিঃসঙ্কোচে এবার বলল, ‘জেবু, আমার পরান পাখি, তোমাকে বিয়া করতে চাই।’

জেবু বাতচিৎ না করে আরও গম্ভীর হয়ে তাকে বোঝাতে চাইলো আমি এত সহজ ফল না। মুখ হা করলেই টুপ করে মুখে পড়বো। তাকে পাশ কেটে চলে গেল এবং আরও জোর কদমে হাঁটতে লাগল সে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিলের রাস্তা। সেখানে এসে দেখল বিলের পানিতে অসংখ্য নীল ভাঁটফুল ফুটে আছে। গাঢ় সন্ধ্যার ম্রিয়মাণ আলো পান করছিল তারা। ফলে উপচে পড়ছিল তাদের বহুমাত্রিক সৌন্দর্য। কয়েকদিন ধরেই দেখছিল, কিন্তু তাদের ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে করেনি; আজ করল। আস্তে আস্তে পানিতে নেমে ভাঁটফুল ছিঁড়তে যাবে, এমন সময় কয়েকটা শাদা বক তাকে দেখে ভয় পেয়ে আকাশে উড়ে উঠল। পাখা ঝাপ্টাতে ঝাপ্টাতে তারা পশ্চিম দিগন্তে মিলিয়ে গেল। সাপের ভয় লেজ নাড়াচ্ছিল। জবরদস্ত সান্ধ্যবাতাস শিস ফোটাচ্ছিল। চারদিক অশরীরী আত্মার ভয় উৎপাদনের রূপ নিলো। ফলে আচমকা শিহরণের অমসৃণ সুতো তাকে টেনে ধরলো। তবে ফুল ছিঁড়তে অনড় সে। একটা ফুল ছিঁড়ল এবং তার খোঁপায় গুঁজে নিলো। তারপর গুনগুন করতে করতে গৃহে ফিরল।

বেঙ্গা অপেক্ষমাণ ছিল তার জন্য। তাকে দেখে চনমনে হয়ে উঠল। হাসতে হাসতে ঘটনাটা বেঙ্গাকে শোনাল সে। বেঙ্গা খুশি হয়ে বলল, ‘বুবু, রাজি হয়ে যাও। এই লোকটা তোমার জন্যে ফিট। তুমি যাকে ভালোবাসো, তাকে বিবাহ করবে না। যে তোমাকে ভালোবাসে, তাকেই বিবাহ করবে।’ বেঙ্গার মুখে এমন গুরুগম্ভীর বচন শুনলে কে না আশ্চর্য হবে! জেবুও আশ্চর্য হয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘তুই এত সুন্দর করে কথা বলতে পারিস, জীবনে এই প্রথম শুনলাম।’
‘বুবু, আমি আরও সুন্দর করে কথা বলতে পারি,’ বেঙ্গা বলল।
‘কী সুন্দর কথা, বল দেখি।’ জেবু আগ্রহ সহকারে তাকাল।
বেঙ্গা বলল, ‘এই দুনিয়াটা কারো কারো কাছে বেজায় সুন্দর, কারো কারো কাছে অভিশাপ। যেমন আমার কাছে।’
জেবুর বুকে হাহাকার উঠল। শোক ও সন্তাপের সারঙ্গী বেজে উঠল তার মনে। সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়ের ভারী মাথাটা তুলে বুকে নিলো সে। তার কপালে চুমু খেয়ে বলল, ‘এভাবে বলিস না ভাই! আমি কেন আছি, অ্যাঁ! তোর মুখে হাসি ফোটাতেই তো।’
‘যদি হাসি ফোটাতে চাও, যে লোকটা তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে আসতে বলো।’
‘তোকে দেখার পর যদি সে রাজি না হয়!’
‘যদি তোমাকে সত্যি সত্যিই ভালোবাসে, সে আমাকেও ভালোবাসবে।’
‘সত্যি সত্যিই সে ভালোবাসে।’ জেবুর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।

চলবে...

আরও গল্প পড়ুন
পাওলো কোয়েলহোর গল্প: নিখোঁজ তুরঙ্গ 
পঙ্কজ শীলের গল্প: পাতার শহর 

এসইউ

আরও পড়ুন