তানিয়া রাত্রির কবিতা
মন ছুটন্ত অশ্ব এবং অন্যান্য
ফাইল ছবি
মন ছুটন্ত অশ্ব
মন তো ছুটন্ত অশ্ব।
কোথায় থামবে, কোথায় তার লাগাম—
কিছুই জানা নেই।
আর আমি কোনো সুরও নই,
সংগীতও নই।
আমি শুধুই শব্দ,
নিজের ভেঙে যাওয়া শব্দ।
অথচ আমার কোনো কবর হয়নি,
আমিই কবর হয়ে গেছি।
কোনো স্মৃতি তো জমানো হলো না,
যম তো কয়েকদিন পরে এলেও পারতো।
****
শেকড়
আমরা এ রকম করবো কেমন?
সারাদিনরাত পাশাপাশি শুয়ে থাকবো!
আর শরীরের অক্ষর ভরা উপন্যাস পড়বো?
পৃথিবীর এত যুদ্ধের কী কারণ?
কে দুরন্ত জোছনায় চাঁদ ছুঁয়ে দিলো?
চারদিকে মেশিনের মতো সব মানুষ আর তাদের নীল দীর্ঘনিঃশ্বাস।
এসব জেনে আর কী হবে?
আষাঢ়ের বজ্রপাতেও কিছু যায়-আসে না।
আমি কেবল জানি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক ভুল।
আমার ভেতরে সুগোপনে
একটি স্বদেশ রেখেছি।
সেখানে আমার অদেখা শেকড়, যার শেকড়ত্ব নেই,
অথচ তাকে আমি ভালোবাসি।
****
প্রেম স্বপ্ন মৃত্যু
প্রেম-স্বপ্ন-মৃত্যু
প্রেম কি আমাদের হৃদয়ে?
আমার সাথে চল,
ভেসে যাই দূর কোনো আবিষ্কারের দেশে।
তোমার ওই সুন্দর জন্তুর মতো দেহে
শুধু রক্ত, শুধু শরীর?
বাঘের বিক্ষোভ নিয়ে
আমাকে হরিণী করে
নদীর কিনারে—চলো।
শুধু সাথে থাকো
আমার উজ্জ্বল মৃত্যু হয়ে,
আমার প্রেম হয়ে।
দুঃখময় পৃথিবীতে আমি পুরোনো হয়ে গেছি কবেই।
তবুও মৃত্যুও আমার মোহে পড়েনি আজও।
হে স্থবির প্রেমিক,
কত নগর-বন্দর খুঁজেছি আমি;
তারপর তোমার কাছে এসে থামি।
তুমি যদি মরীচিকা হও, আমি তবে মরুভূমি।
****
পাথর ও প্রতীক্ষা
দরজার সামনের পাথর কষ্ট করে আর সরাতে হবে না তোমায়।
আমি তো পাথরে মাথা কুটেই ওকে শেষ করতে পারতাম,
কিন্তু তা করবো না।
তুমি বরং ছোট পাথর হয়ে আমার বুকে এসো।
আমাকে তো বুকে পাথর বেঁধেই বাঁচতে হবে না, তাই না?
আর তোমার প্রহরীর দুর্ব্যবহার আমি গায়ে মাখি না—
ও তো আমার পুরোনো মিতা।
প্রতি রাতেই দেখে
তোমার দরজায় চুমু খাচ্ছি।
****
শস্যের প্রতীক্ষা
পৃথিবীর ঢের জন্ম নষ্ট হয়ে গেছে।
আমি আমার জন্ম নষ্ট করতে চাই না।
খনার কর্তিত জিহ্বার মতো আমার সত্য উচ্চারণ।
আমি ভূমি হতে চাই।
শরীরে কতটা মাটি মেখে নিলে আমি জমি হবো?
সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষা জমি,
চাষের ক্ষেত,
অথবা শস্যের মাঠ—
নয়তো সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে পড়ে থাকা তুচ্ছ অচেনা সবুজ,
যার ওপারে আছে এক অজানা দেশ,
আর আছে আমার না জানি কি।
আমি তার শব্দবীজের অপেক্ষা করি।
জন্মেছে যারা পৃথিবীর বীজ খেতে,
অথবা আজও জন্মাবে বীজ খেতে,
তাদের মতো আমার হৃদয় নয়।
তাই আমি মাটির খাদ্য হতে চাই না।
আমার অসহনীয় অসীম আয়ু বয়ে নিয়ে
শব্দশস্যে, নিত্যানন্দে স্বপ্নময় ভোর হতে চাই।
আমার না জানি কি প্রিয়—
দধীচির মতো সাধক চাষি হোক।
আমার শরীরিক মাটি কর্ষণ করেই
কৃষি প্রতিভা দেখাতে দেখাক।
মাতাল মৃতবৎসা পৃথিবীতে
তারই জন্যে অবিশ্রান্ত প্রতীক্ষা।
এসইউ