পাঠকের পাতায় সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড

সাহিত্য ডেস্ক প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৯
পাঠকের পাতায় সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড

পাঠকের পাতার ১৪শ বই ব্যবচ্ছেদে এবার থাকছে সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’। মার্চ মাসের তাৎপর্য বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসটি নির্বাচন করেছেন।

১৬ মার্চ শনিবার কুইন্স লাইব্রেরির হলিস শাখায় গ্রন্থটির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়, শেষ হবে বিকেল পাঁচটায়। এবারের মূল আলোচক ফরহাদ ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করবেন কাজী জহিরুল ইসলাম, সৈয়দ ফজলুর রহমান, আবদুল্লাহ জাহিদ, ওবায়দুল্লাহ মামুন প্রমুখ।

BOOK১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালে যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের এক মায়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন এই উপন্যাসটি রচনা করেন। ১৯৭২ সালে গল্পাকারে ঘটনাটি লিখেন এবং সমকালীন টেরেডাকটিল নামে তরুণদের একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়। ১৯৭৪ সালে গল্পটিকে তিনি উপন্যাস আকারে লিখেন এবং ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

হলদি গ্রামের এক দুরন্ত কিশোরী বুড়ি। কৈশোর থেকে সে চঞ্চলতায় উচ্ছল, কৌতূহলপ্রবণ, উৎসুক দৃষ্টি, নিবিড়ভাবে দেখা, চমৎকারভাবে মেশা, উচ্ছলতায় ভরপুর। কম বয়সেই বিয়ে হয় তার থেকে বয়সে অনেক বড় বিপত্নীক গফুরের সঙ্গে। গফুরের সংসারে তার আগের স্ত্রীর রেখে যাওয়া সলীম ও কলীম নামে দুটো ছেলে আছে।

সংসারজীবন ভালই লাগে বুড়ির। যদিও গফুর বুঝতে পারে না বুড়িকে। আগের বউ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, কখন কী বলে, কী করে তা বোঝা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য। অবশ্য কারও সাথে পাছে নেই, কাউকে মন্দ বলে না, কেউ বললে ভ্রুক্ষেপ করে না। এরই মধ্যে মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে ওঠে বুড়ির। সলীম-কলীম থাকলেও তার নিজের গর্ভের সন্তান চায়। অবশেষে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান। বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী রইস। তাতেও ভালোবাসার কমতি হয় না।

কিছুদিন পর গফুর মারা যায়। সলীমের বিয়ে হয় রামিজার সাথে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তার কোলজুড়ে আসে একটি সন্তান।

কলীমের বিয়ের কথার সময় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বন্ধ হয়ে যায় সব আলোচনা। যুদ্ধের ঢেউ আসে হলদি গাঁয়ে। সেই ঢেউয়ে উথাল-পাথাল হয়ে যায় বুড়ির সাজানো সংসার। সলীম যায় যুদ্ধে। ভাই সলীম ও মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে খবর না দেওয়ায় কলীমকে পাকিস্তানি আর্মি ও তার দোসররা বুড়ির চোখের সামনে নির্মমভাবে খুন করে। এভাবেই বেড়ে ওঠে উপন্যাসের গল্প প্রবাহ।

এইচআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :

এই বিভাগের সর্বশেষ