মো. ইলিয়াসের কবিতা: ধূলিকণার বিদ্রোহ
ছবি: তানভীর রহমান
শ্রম আমার আরাধনা নয়—এ আমার বজ্রশপথ,
রক্তে-ঘামে খুঁজে তুলি ইতিহাস, নিঃশেষ করি ক্লেদপথ।
নখ-দাঁত ভেঙে গড়ি সভ্যতা, আমিই প্রকৃত নির্মাতা,
পুঁজির বিষে পচে গেছে পৃথিবী, এসো জ্বালাও প্রলয়গাথা।
আমরা আর মোহভঙ্গে নয়, আজ কামান ঠেকাই হাতে,
নয়া যুগের বন্দুক হবে হাতুড়ি, কাস্তে, ঘাম, ঘরে-রাতে।
শাসকের পুতুল নীতি পুড়ুক, গ্লানি গলে গিয়ে হোক ছাই,
আমরা আগুন, ঝড়ের চেয়ে ভয়ানক, ভয় দেখালে ভয় পাই?
ভিক্ষার ভাত নয়, গর্জে উঠুক দাবির স্লেট-লাল,
‘আমার দেশের ইট-পাথরও শ্রমিক ছাড়া পঙ্গু, খাল।’
পুঁজির হাত কাঁপুক এবার, যত দিন গিয়েছে লুণ্ঠনে,
শ্রমিক আজ জ্বলন্ত আগ্নেয়, সব ভস্ম হবে ধ্বনিতে।
সাম্রাজ্যের সিংহাসনে আর বসবে না দালাল কেউ,
ঘামে কেনা প্রতিটি ধূলিকণাই এখন বিপ্লবের ঢেউ।
বুলেট নয়, ব্যালট নয়—চাই না আর মিছেমিছি বিচার,
শ্রমিকের রক্তে লেখা ইতিহাস গর্জে উঠুক আবার।
দেওয়ালে লেখো আগুন হরফে: ‘যথেষ্ট হয়েছে আর নয়’,
এইবার শাসন শ্রমিকের, শোষকের জন্য শেষের ক্ষয়।
এসইউ/জিকেএস