ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. সাহিত্য

কবির সঙ্গে আলাপ

নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণের চেষ্টা করেছি: মঈন মুরসালিন

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ | প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

মঈন মুরসালিন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিশ্রুতিশীল নাম। যিনি সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন কবিতা, শিশুসাহিত্য এবং প্রকাশনায়। তার জন্ম ১৯৮৪ সালের ১০ জানুয়ারি ঢাকার মগবাজারে। তিনি নিজেকে একজন মননশীল কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। যার লেখনীতে ফুটে ওঠে গভীর জীবনবোধ এবং সমাজের নানা দিক। পাশাপাশি একজন সফল শিশুসাহিত্যিক। তিনি শিশুদের জন্য নির্মাণ করেছেন কল্পনাবিলাসী ও আনন্দময় জগৎ। তার বহুমাত্রিক কর্ম দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করে চলেছেন।

তার লেখালেখি ও প্রকাশনা বিষয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

জাগো নিউজ: আপনার লেখা পাঠককে কীভাবে আকৃষ্ট করতে পারে?
মঈন মুরসালিন: কবিতা আমার সাহিত্যিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি। আমার কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সরলতা ও গভীরতার এক দারুণ সমন্বয়। সাধারণ বিষয়বস্তুকে অসাধারণ কাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরতে চেষ্টা করি। আমার লেখনীতে প্রেম, প্রকৃতি, মানবজীবন এবং সমসাময়িক সমাজের নানা অসঙ্গতি উঠে আসে। আমার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘রোদের মেয়ে বৃষ্টি বোঝে না’, ‘নাকফুলে ঝুলে আছে ঋতুবতী চাঁদ’ এবং ‘দুর্বোধ্য মায়ার শহর’ উল্লেখযোগ্য। গ্রন্থগুলোতে নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণের চেষ্টা করেছি, যা পাঠককে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে।

জাগো নিউজ: আপনার শিশুসাহিত্য চর্চা সম্পর্কে কিছু বলুন—
মঈন মুরসালিন: সাহিত্যের এক উজ্জ্বল দিক হলো শিশুসাহিত্য। তাই শিশুদের মনোজগৎকে বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা থাকতে হয়। আমি ছড়া, কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে শিশুদের জন্য এমন জগৎ তৈরি করতে চাই। যেখানে আনন্দ, শিক্ষা এবং কল্পনা হাত ধরাধরি করে চলে। আমার ‘ছড়ার বাড়ি অচিনপুর’, ‘১০০ ছড়া’, ‘ছড়া কাটে ছড়াকার বই কাটে ইঁদুরে’ এবং ‘পাখির শহর পাখির বহর’ শিশুদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। ‘পরির হাতে নীল চুড়ি’ গল্প সংকলনে রূপকথার সঙ্গে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলো মিশিয়ে দিয়েছি, যা শিশুদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
লেখার ভাবনা কখনো ছেড়ে যায় না: পাপড়ি রহমান 
ভাওয়াইয়ার কাঙ্ক্ষিত কাজগুলো শেষ করতে চাই: ভূপতি ভূষণ বর্মা 
সত্যিকারের জীবন আসলে অন্য কোথাও: লাসলো ক্রাসনাহোরকাই 

জাগো নিউজ: আপনার সম্পাদিত ছোটদের পত্রিকা ‘কানামাছি’ সম্পর্কে জানতে চাই—
মঈন মুরসালিন: শিশুসাহিত্য চর্চার পাশাপাশি ছোটদের পত্রিকা ‘কানামাছি’ সম্পাদনা করছি। এর মাধ্যমেও শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ‘কানামাছি’ পত্রিকাটির বয়স এখন ২০ বছর। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের উপযোগী পত্রিকাটি। শিশু পাঠকরাই একদিন বড় হবে; সেই স্বপ্ন নিয়েই কানামাছির পথচলা।

জাগো নিউজ: প্রকাশনা সংস্থা প্রতিভা প্রকাশ নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন?
মঈন মুরসালিন: একজন লেখক হওয়ার পাশাপাশি ‘প্রতিভা প্রকাশ’ নামে প্রকাশনা সংস্থা গড়ে তুলেছি। প্রকাশনা জগতে আগমন মূলত লেখক হিসেবে অভিজ্ঞতারই সম্প্রসারণ। কেবল নিজের বই নয় বরং নতুন ও প্রতিভাবান লেখকদের কাজও প্রকাশ করছি। একজন প্রকাশক হিসেবে সাহিত্য জগতে নতুন কণ্ঠস্বরকে সামনে আনতে এবং মানসম্মত বই পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে কাজ করছি। এটি সাহিত্যপ্রেম এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক।

জাগো নিউজ: একজন লেখক ও প্রকাশক হিসেবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মঈন মুরসালিন: একই সঙ্গে কবি, শিশুসাহিত্যিক এবং প্রকাশক হিসেবে ভূমিকা রাখা অনেকটা কঠিন। তারপরও আমার কবিতা যখন পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়, শিশুসাহিত্য যখন শিশুদের মনে কল্পনার বীজ বুনে দেয় এবং প্রকাশনা যখন নতুন লেখকদের জন্য দরজা খুলে দেয়; তখন আনন্দটা একটু বেশিই হয়। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা যদি বাংলা সাহিত্যের ভান্ডার সমৃদ্ধ করে, তবেই আমি সার্থক। আমি কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চাই, একজন সত্যিকারের সাহিত্যিক কেবল সৃষ্টি করেই থেমে থাকেন না বরং নতুন সৃষ্টির পথও তৈরি করেন।

এসইউ

আরও পড়ুন