এই অস্থির সময়ে মানুষকে বইমুখী করতে মনোযোগী হতে হবে
সোমবার জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়/সংগৃহীত ছবি
ভালো জাতি বা সমাজ গঠনে বইপড়ার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে কীভাবে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। মানুষের মাঝে বইপড়ার অভ্যাস ছড়িয়ে দিতে হবে। ভালো বই ভালো মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে ‘দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে কীভাবে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের মনোযোগী হতে হবে। মানুষকে যদি বইমুখী করা যায, তবে এ কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে সফল হবে।

এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সারাদেশে অধিক সংখ্যক মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বইপড়ার ওপর গুরুত্বোরাপ করে বলেন, ভালো জাতি বা সমাজ গঠন করতে হলে বইপড়ার কোনো বিকল্প নেই। পাঠকদের দোরগোড়ায় ভালো বই পৌঁছে দিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কয়েকটি ভালো বই একজনকে ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করতে অবশ্যই মুখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে।
ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে সারাদেশে যে পাঠক সমাজ তৈরি হচ্ছে, তা আগামীদিনে জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান।
এর আগে সূচনা বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন খান অনুষ্ঠানে আসা সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ প্রকল্প সারাদেশে সৃজনশীল পাঠক নির্মাণে ভূমিকা রাখবে। সবার সহযোগিতায় কার্যক্রমটি সামনে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সারাদেশে মাঠপর্যায়ে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি-গাড়ির মাধ্যমে ৬৪টি জেলার ৩৬৮টি উপজেলায় ৩২০০টি স্পটে সর্বসাধারণের জন্য, বিশেষত নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য বই পঠনের সেবা দেবে।
এর মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার পাঠক সৃজনশীল বই পাঠ ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আসবেন। বিশেষত এ প্রকল্পের আওতায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ সঞ্চার ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা এবং ৮ হাজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
এমকেআর